পোষা বিড়াল মালিককে কামড়ায় কেন, জেনে নিন কারণ ও করণীয়

Sharmin Sultana Sharmin Sultana ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪:৩৫ PM BST ১ বার পঠিত
পোষা বিড়াল মালিককে কামড়ায় কেন, জেনে নিন কারণ ও করণীয়

collected

পোষা বিড়ালকে পরিবারের সদস্যের মতো ভালোবাসেন অনেকেই। মালিকের কোলে বসা, গা ঘেঁষে থাকা কিংবা আদর নেওয়ার সময় বিড়াল কখনো হালকা কামড় দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এটি স্বাভাবিক খেলা বা যোগাযোগের অংশ হলেও সব কামড়কে ভালোবাসার প্রকাশ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। ভয়, অস্বস্তি, মানসিক চাপ কিংবা শারীরিক সমস্যার কারণেও বিড়াল এমন আচরণ করতে পারে।

বিড়াল কখন, কীভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে কামড়াচ্ছে, তা পর্যবেক্ষণ করলে আচরণটির কারণ বুঝতে সুবিধা হয়। বিশেষ করে আগে শান্ত থাকা বিড়াল হঠাৎ কামড়াতে শুরু করলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

আদরের সময় বিরক্তি প্রকাশ

অনেক বিড়াল মালিকের কাছ থেকে আদর পছন্দ করলেও দীর্ঘ সময় ধরে শরীরে হাত বুলিয়ে দিলে বিরক্ত হতে পারে। প্রথমে শান্ত থাকলেও একপর্যায়ে কামড় দিয়ে অস্বস্তি প্রকাশ করতে পারে। কামড়ানোর আগে লেজ দ্রুত নাড়ানো, কান পেছনে সরিয়ে নেওয়া, শরীর শক্ত করে রাখা কিংবা হাতের দিকে ঘুরে তাকানোর মতো সংকেত দেখা যেতে পারে।

এ ধরনের আচরণ লক্ষ করলে আদর বন্ধ করে বিড়ালকে কিছুটা সময় দেওয়া উচিত। তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে আদর চালিয়ে গেলে অস্বস্তি আরও বাড়তে পারে।

ভালোবাসা, নাকি খেলার অংশ

কিছু বিড়াল মালিকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তে হালকা কামড় দেয়। একে অনেক সময় ‘লাভ বাইট’ বলা হয়। তবে শুধু কামড়ের ধরন দেখে এটিকে ভালোবাসার প্রকাশ বলে নিশ্চিত হওয়া যায় না। খেলতে চাওয়া, উত্তেজিত হওয়া কিংবা আদর বন্ধ করার ইচ্ছা থেকেও এমন আচরণ হতে পারে।

বিশেষ করে ছোট বিড়াল খেলার সময় হাত, আঙুল বা পায়ে কামড় দিতে পারে। এটি তাদের স্বাভাবিক শিকার ধরার প্রবৃত্তির সঙ্গে সম্পর্কিত। হাত দিয়ে সরাসরি খেলালে বিড়াল হাতকে খেলনার মতো ভাবতে শিখতে পারে। এ অভ্যাস কমাতে হাতের পরিবর্তে উপযুক্ত খেলনা ব্যবহার করা ভালো। কামড় শুরু হলে খেলা থামিয়ে বিড়ালকে শান্ত হওয়ার সুযোগ দিতে হবে।

ভয়, অস্বস্তি ও অসুস্থতার সংকেত

অপরিচিত মানুষের উপস্থিতি, হঠাৎ জোরে শব্দ, জোর করে কোলে নেওয়া কিংবা আটকে রাখার কারণে বিড়াল ভয় পেতে পারে। তখন আত্মরক্ষার জন্য কামড়ানোর আশ্রয় নিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ধমক দেওয়া বা মারধর করার পরিবর্তে তাকে নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত।

আবার শরীরের কোনো অংশে ব্যথা, আঘাত কিংবা অসুস্থতা থাকলেও স্পর্শের সময় বিড়াল কামড়াতে পারে। পরিবেশের পরিবর্তন, নতুন মানুষ বা প্রাণীর উপস্থিতি এবং মানসিক চাপও আচরণে প্রভাব ফেলতে পারে। আগে শান্ত থাকা বিড়াল হঠাৎ আক্রমণাত্মক হয়ে উঠলে, নির্দিষ্ট স্থানে স্পর্শ করলেই কামড়ালে কিংবা খাওয়া-দাওয়া ও চলাফেরায় পরিবর্তন দেখা দিলে পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

বিড়াল কামড়ালে কী করবেন

বিড়ালের কামড়ের সময় জোর করে তাকে ধরে রাখা বা শাস্তি দেওয়ার চেষ্টা না করে নিরাপদে দূরে সরে যান। ভবিষ্যতে কোন পরিস্থিতিতে কামড়াচ্ছে, তা লক্ষ করে খেলাধুলা ও আদরের ধরনে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনুন।

কামড়ে চামড়া কেটে গেলে ক্ষতস্থান অবিলম্বে সাবান ও প্রবাহিত পানি দিয়ে প্রায় ১৫ মিনিট ভালোভাবে ধুয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। পোষা বিড়ালের কামড় থেকেও সংক্রমণ হতে পারে। ক্ষতের ধরন, বিড়ালের স্বাস্থ্য ও টিকার অবস্থা বিবেচনা করে চিকিৎসক জলাতঙ্কের টিকা, ইমিউনোগ্লোবুলিন কিংবা টিটেনাস প্রতিরোধের প্রয়োজন নির্ধারণ করবেন।

বিড়ালের কামড় সব সময় মালিকের প্রতি অপছন্দের লক্ষণ নয়। তবে একে ভালোবাসার নিশ্চিত প্রকাশ ভাবাও ঠিক নয়। বিড়ালের আচরণ বুঝে চলা এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসা নেওয়াই মালিক ও পোষা প্রাণী—উভয়ের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: