ছবি: সংগৃহীত
কানাডার সাগরপাড়ের পথ ধরে ছুটছে গাড়ি। এক পাশে আটলান্টিক মহাসাগরের জলরাশি, অন্য পাশে প্রকৃতির মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। গাড়ির জানালার কাচ নামিয়ে কখনো সমুদ্র দেখছেন, কখনো ভিডিও করছেন, আবার কখনো নিজের মুগ্ধতার কথা জানাচ্ছেন দেশের বরেণ্য অভিনয়শিল্পী ফরিদা আক্তার ববিতা। আর গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে ছিলেন নায়করাজ রাজ্জাকের নাতনি নাজলি হোসেন ঐশী।
কুইবেক থেকে জ্যাসপার যাওয়ার পথে এমনই এক আনন্দঘন ভ্রমণের মুহূর্ত ভিডিওতে তুলে ধরেছেন ববিতা। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন নায়করাজ রাজ্জাকের মেজ ছেলে রওশন হোসেন বাপ্পী, তাঁর স্ত্রী নাহিদ হোসেন হ্যাপি এবং মেয়ে ঐশী। দীর্ঘ পথের যাত্রায় গাড়ি চালাচ্ছিলেন ঐশী। তাঁর পাশে ছিলেন বাবা বাপ্পী। আর পেছনের আসনে বসে ববিতার সঙ্গে পথের সৌন্দর্য উপভোগ করছিলেন হ্যাপি।
আটলান্টিক মহাসাগরের পাশ দিয়ে গাড়ি চলার সময় প্রকৃতির সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে ববিতাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা সবাই কুইবেক থেকে যাচ্ছি আটলান্টিক সমুদ্রের পাশ দিয়ে। কী অপূর্ব সাগর! ওরে বাবা... সাংঘাতিক!’
সকাল সাতটায় যাত্রা শুরু করেছিলেন তাঁরা। দীর্ঘ পথ পেরিয়ে গন্তব্য জ্যাসপার। পথে ববিতা কখনো বাইরের দৃশ্য ক্যামেরাবন্দী করেছেন, আবার কখনো গাড়ির ভেতরের সঙ্গীদের সঙ্গে কথোপকথনের মুহূর্তও ভিডিও করেছেন। সব মিলিয়ে তাঁর ভিডিওতে উঠে এসেছে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কাটানো একটি আনন্দময় ভ্রমণের গল্প।
জ্যাসপারে পৌঁছেও ববিতার মুগ্ধতা কমেনি। সেখানে দাঁড়িয়ে ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘জ্যাসপার। অপূর্ব! আমরা এখানে আছি।’ পরে সমুদ্রের পাড় থেকে ছেলে অনিকের সঙ্গেও ভিডিও কলে কথা বলেন তিনি।
প্রায় দুই মাস আগে ছেলে অনিকের সঙ্গে সময় কাটাতে কানাডায় যান ববিতা। তাঁর ছেলে কিচেনারে থাকেন। অন্যদিকে নায়করাজ রাজ্জাকের মেজ ছেলে রওশন হোসেন বাপ্পী পরিবার নিয়ে টরন্টোতে বসবাস করেন। ববিতা কানাডায় যাওয়ার পর বাপ্পীর পরিবারের সঙ্গেও তাঁর দেখা হয়। এবার দুই পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে কুইবেক ভ্রমণে যান। সেখানে কিছু সময় কাটানোর পর জ্যাসপারের উদ্দেশে রওনা হন তাঁরা।
এই ভ্রমণের সঙ্গে ববিতার জন্য জড়িয়ে আছে পুরোনো পারিবারিক সম্পর্কের স্মৃতিও। নায়করাজ রাজ্জাকের পরিবারের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠতা ছিল। দুই পরিবারের মধ্যে নিয়মিত যাওয়া-আসা ছিল। ববিতার ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিজীবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তেও রাজ্জাকের মতামত গুরুত্ব পেত।
রাজ্জাককে স্মরণ করে ববিতা একবার বলেছিলেন, ‘রাজ্জাক ভাই শুধু পর্দার নায়ক ছিলেন না, আমার চোখে বাস্তব জীবনেও তিনি ছিলেন সত্যিকারের নায়ক।’
রাজ্জাক পরিবারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক যে শুধু চলচ্চিত্রের সূত্রে নয়, বরং পারিবারিক—সেটিও বিভিন্ন সময়ে জানিয়েছেন ববিতা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, রাজ্জাক পরিবারের বিভিন্ন পারিবারিক অনুষ্ঠানে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হতো। একইভাবে তাঁর পরিবারের অনুষ্ঠানেও উপস্থিত থাকতেন রাজ্জাক পরিবারের সদস্যরা।
বাপ্পীর সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক সেই পুরোনো পারিবারিক বন্ধনেরই ধারাবাহিকতা। ববিতার কাছে রাজ্জাকের মেজ ছেলে বাপ্পীও সন্তানের মতো। ছোটবেলা থেকে দুই পরিবারের নিয়মিত যোগাযোগের কারণে তাঁদের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে।
রাজ্জাকের বড় ছেলে বাপ্পারাজ ও ছোট ছেলে সম্রাট অভিনয়ের কারণে দর্শকদের কাছে বেশি পরিচিত। তবে মেজ ছেলে রওশন হোসেন বাপ্পী কখনো অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। ২০১৩ সাল থেকে তিনি পরিবার নিয়ে কানাডায় বসবাস করছেন। সেখানেই এবার তাঁর পরিবারের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটাচ্ছেন ববিতা।