আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকে নতুন অভিযোগ, অনুসন্ধানের অনুমোদন

Sharmin Sultana Sharmin Sultana ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪:৫৬ PM BST ২৯ বার পঠিত
আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকে নতুন অভিযোগ, অনুসন্ধানের অনুমোদন

collected

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের আরও অভিযোগ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আগের নিয়োগ, বদলি ও পদায়নসংক্রান্ত অভিযোগের সঙ্গে নতুন অভিযোগগুলোও অনুসন্ধানের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

রোববার দুপুরে এক ব্রিফিংয়ে দুদকের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

দুদকের কাছে আসা অভিযোগের মধ্যে রয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগে প্রায় ৬০ কোটি টাকা এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে ৩৬ জন জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়নে ২ থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনের অভিযোগ। এছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের টেন্ডার বাণিজ্য এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের সময় উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার থেকে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ কমিশন নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ততার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেতু নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় বাড়িয়ে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

দুদকে জমা পড়া অভিযোগে ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়ানোর অভিযোগও রয়েছে।

এ ছাড়া যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে আর্থিক লেনদেন, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে আব্দুস সালামকে নিয়োগের ক্ষেত্রে ১০ কোটি টাকা উৎকোচ গ্রহণ এবং এলজিইডির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুর রশীদ খানকে নিয়োগে ৫২ কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পদে আব্দুল লতিফ খানকে নিয়োগের ক্ষেত্রেও ৬৫ কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগের আরেক অংশে রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয়ে হেলিকপ্টারে ভ্রমণ, বিলাসবহুল হোটেলে যাতায়াত, ফ্ল্যাট ও গাড়ি ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি অর্থ অপচয়ের কথা বলা হয়েছে।

বিদেশে অর্থপাচার ও সম্পদ গড়ারও বেশ কিছু অভিযোগ দুদকে জমা পড়েছে। এর মধ্যে পর্তুগালে জমি কেনা, দুবাইয়ের একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ এবং সুইস ব্যাংকে অর্থ জমার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইজারল্যান্ডে বিপুল অর্থ পাচার করে ভিলা কেনা ও ব্যবসায় বিনিয়োগের অভিযোগও করা হয়েছে। এসব অর্থ তাঁর দুই বোনজামাই ও এক ভাগ্নের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে আসিফ মাহমুদের নিজ উপজেলা মুরাদনগরের জন্য ৪৫৩ কোটি টাকা বরাদ্দের বিষয়েও অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, তাঁর বাবা বিল্লাল হোসেন, এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেন এবং পিও মাহফুজুল আলম ভূঁইয়া ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগাযোগ ও প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহারের মাধ্যমে বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত ছিলেন।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো প্রমাণিত নয়। দুদক জানিয়েছে, অভিযোগগুলো নথিভুক্ত করে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে। অনুসন্ধানের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা ও সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা যাচাই করা হবে।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: