ছবি: সংগৃহীত
দেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিচ্ছে সরকার। তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী জানিয়েছেন, চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে করণীয়, বাস্তবায়ন কৌশল এবং প্রয়োজনীয় সরকারি সহযোগিতা নিয়ে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (এফডিসি) ‘ফিল্ম ডিরেক্টরস ডে ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ইয়াসের খান চৌধুরী।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, সেগুলো কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে এবং সরকারের পক্ষ থেকে কী ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন—এসব বিষয় সমন্বিত পরিকল্পনায় তুলে ধরা হবে।
তিনি বলেন, স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগের মাধ্যমে চলচ্চিত্র শিল্পের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও দপ্তরকে আরও কার্যকর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে এফডিসিকেও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ইয়াসের খান চৌধুরী আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু এফডিসির অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়; বরং সামগ্রিক চলচ্চিত্র শিল্পের বিকাশ ঘটানো। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতে দেশের পরিচালক, প্রযোজক, অভিনেতা ও অভিনেত্রীরা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন। সেই ঐতিহ্যকে সামনে রেখে চলচ্চিত্রের মান এবং শিল্পের সক্ষমতা বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
চলচ্চিত্রের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত গুণীজনদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিল্পের উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞ ব্যক্তিরাই নেতৃত্ব দেবেন। সরকার তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে পাশে থাকবে।
অনুষ্ঠানে শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে ‘ফিল্ম ডিরেক্টরস ডে ২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি শাহীন সুমন স্বাগত বক্তব্য দেন। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির ৪৫ বছরের পথচলায় এফডিসিতে এবারই প্রথম ‘ফিল্ম ডিরেক্টরস ডে’ আয়োজন করা হয়।
দেশীয় চলচ্চিত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে অনুষ্ঠানে বেশ কয়েকজন গুণী ব্যক্তিকে সম্মাননা দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ফরিদুর রেজা সাগর, সাবিনা ইয়াসমিন, মাসুদ পারভেজ, এ জে মিন্টু, কাজী হায়াৎ, দেলোয়ার জাহান ঝন্টু, ড. মতিন রহমান ও মসিহ উদ্দিন শাকেরসহ চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান। তিনি বলেন, চলচ্চিত্র সমাজ ও মানুষের মানসিকতা পরিবর্তনের একটি শক্তিশালী মাধ্যম।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমান, এফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুমা তানি, পরিচালক সমিতির মহাসচিব শাহীন কবির টুটুলসহ চলচ্চিত্র অঙ্গনের পরিচালক, প্রযোজক, শিল্পী, কলাকুশলী ও সাংবাদিকরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
সরকারের নতুন এই পরিকল্পনায় চলচ্চিত্র শিল্পের প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর করা, চলচ্চিত্রের মানোন্নয়ন এবং শিল্পের সামগ্রিক সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের অংশগ্রহণে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে নতুন উদ্যোগের সুযোগ তৈরি হতে পারে।