সংগৃহীত ছবি
‘দ্য ইন্ডিয়া স্টোরি’ সিনেমায় অভিনয়ের পর খাবার নিয়ে আগের চেয়ে অনেক বেশি সতর্ক হয়েছেন বলিউড অভিনেতা শ্রেয়স তলপড়ে। খাবার সামনে এলেই এখন সেটি কতটা নিরাপদ এবং কোথা থেকে এসেছে, তা নিয়ে ভাবেন তিনি। এমনকি দুধ খাওয়া বন্ধ করেছেন এবং পনিরও কমিয়ে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন অভিনেতা। ভেজাল নিয়ে শঙ্কার কারণে যতটা সম্ভব নির্ভরযোগ্য জায়গা থেকে খাবার কেনার চেষ্টা করেন তিনি।
খাদ্যে ভেজালের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সিনেমা করার সুযোগ পেয়ে শ্রেয়স মনে করেন, এ ধরনের গল্প নিয়ে আরও আগেই চলচ্চিত্র তৈরি হওয়া প্রয়োজন ছিল। চরিত্রটির প্রস্তুতির জন্য তাঁকে অনেক গবেষণা করতে হয়েছে। তাঁর মতে, অভিনয়শিল্পীর জন্য এমন গল্পে কাজ করা জরুরি, যা নতুনভাবে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে।
সিনেমার মাধ্যমে সচেতনতা তৈরির বিষয়ে শ্রেয়সের মত, শুধু চলচ্চিত্র নির্মাণ করলেই পরিবর্তন আসবে না। দর্শকদেরও বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে ও সচেতন হতে হবে। অভিনয়শিল্পীরা কাজের মাধ্যমে বক্তব্য তুলে ধরতে পারেন, কিন্তু সেই বক্তব্য কীভাবে গ্রহণ করবেন, তা দর্শকের ওপরই নির্ভর করে।
‘দ্য ইন্ডিয়া স্টোরি’-তে এক কন্যাসন্তানের বাবার চরিত্রে অভিনয় করেছেন শ্রেয়স। বাস্তব জীবনেও বাবা হওয়ায় চরিত্রটি তাঁর কাছে বিশেষভাবে ব্যক্তিগত হয়ে উঠেছিল। ছবির বেশ কিছু দৃশ্য নিজের জীবনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখেছেন তিনি। এমনকি কয়েকটি আবেগঘন দৃশ্যের ডাবিংয়ের সময়ও তাঁর চোখে পানি চলে আসে। কখনো আবেগ সামলাতে না পেরে ডাবিং বন্ধ রেখে পরদিন কাজ শেষ করতে হয়েছে বলেও জানান অভিনেতা।
কমেডি ঘরানার সিনেমায় বেশি জনপ্রিয় হলেও নিজেকে একটি নির্দিষ্ট ধরনের চরিত্রে আটকে রাখতে চান না শ্রেয়স। তাঁর মতে, একই ধরনের চরিত্রে বারবার অভিনয় করলে একসময় একঘেয়েমি চলে আসে। নতুন চরিত্রের মাধ্যমে নিজেকে আবিষ্কার করতেই তিনি বেশি আনন্দ পান।
ওটিটির প্রসার নিয়েও ইতিবাচক শ্রেয়স। তাঁর মতে, প্রেক্ষাগৃহ ও টেলিভিশনের পাশাপাশি এখন মুঠোফোনের মাধ্যমেও দর্শকের কাছে গল্প পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। নতুন বিষয় ও ভিন্নধর্মী গল্প নিয়ে পরীক্ষার সুযোগও ওটিটিতে বেশি। তবে এই স্বাধীনতার সঙ্গে দায়িত্বশীলতাও প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। গল্পের প্রয়োজন না থাকলে অকারণে গালিগালাজ বা অস্বস্তিকর দৃশ্য রাখা উচিত নয়।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিজের কাজ দেখতে পছন্দ করেন শ্রেয়স। তাই পরিবার নিয়ে একসঙ্গে উপভোগ করা যায়—এমন কনটেন্টের সংখ্যা কমে যাওয়ায় আক্ষেপও রয়েছে তাঁর। বিশেষ করে মেয়েকে নিয়ে ওটিটিতে কিছু দেখার সময় অপ্রত্যাশিত গালিগালাজ বা অস্বস্তিকর দৃশ্য চলে আসা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।
অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনাও উপভোগ করেন শ্রেয়স। প্রযোজক হিসেবে গল্প নির্বাচন থেকে শুরু করে অভিনয়শিল্পী বাছাই, শুটিং, পোস্ট-প্রোডাকশন ও মুক্তি পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকার সুযোগ পান তিনি। আবার পরিচালনায় ফেরার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি। জানিয়েছেন, আগামী বছর হয়তো নতুন করে পরিচালনার দায়িত্ব নিতে পারেন।
‘দ্য ইন্ডিয়া স্টোরি’র পরিচালক চেতন ডিকের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাও ইতিবাচক বলে জানিয়েছেন শ্রেয়স। তাঁর মতে, একজন পরিচালকের অভিজ্ঞতার চেয়ে গল্প বলার প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ও আন্তরিকতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে প্রযোজক হিসেবে সামাজিক বিষয় নিয়ে সিনেমা করতে চান তিনি। তবে শুধু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থাকলেই হবে না, এর সঙ্গে শক্তিশালী গল্পের সমন্বয়ও জরুরি বলে মনে করেন অভিনেতা।
শ্রেয়সের প্রত্যাশা, ‘দ্য ইন্ডিয়া স্টোরি’ দর্শক শুধু দেখবেন না, সিনেমার বিষয়বস্তু থেকে নিজেদের খাবার ও জীবনযাপন নিয়েও নতুন করে ভাববেন।