হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের সাজার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ, বাড়াতে আপিল করবে প্রসিকিউশন

Sharmin Sultana Sharmin Sultana ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০১ AM BST ৩২ বার পঠিত
হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের সাজার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ, বাড়াতে আপিল করবে প্রসিকিউশন

collected

জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয়েছে।

এর আগে ৩০ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ ইনুকে আটটি অভিযোগের মধ্যে তিনটিতে দোষী সাব্যস্ত করে। প্রতিটি অভিযোগে তাকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে সাজাগুলো একই সঙ্গে কার্যকর হওয়ায় মোট ১০ বছর কারাভোগ করতে হবে তাকে।

রায়ের পর প্রসিকিউশন জানিয়েছিল, সংঘটিত অপরাধের মাত্রার তুলনায় ১০ বছরের সাজা যথেষ্ট নয়। এ কারণে সাজা বাড়ানোর দাবিতে আপিল বিভাগে আপিল করার কথা জানানো হয়।

ট্রাইব্যুনাল ইনুর বিরুদ্ধে আনা মোট আটটি অভিযোগের মধ্যে তিনটি প্রমাণিত বলে রায়ে উল্লেখ করে। এর মধ্যে একটি অভিযোগে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও বেসামরিক ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি এবং তাদের গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। অপর দুটি প্রমাণিত অভিযোগের মধ্যে ১৪ দলীয় জোটের একটি বৈঠকে অংশগ্রহণ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথোপকথনের মাধ্যমে কথিত ষড়যন্ত্রে সম্পৃক্ততার বিষয় ছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব অভিযোগের প্রতিটিতে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দুটি অভিযোগে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। সাজাগুলো একসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় সব মিলিয়ে কারাভোগের মেয়াদ ১০ বছর।

ইনুর বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়ায় মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্যে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য, ১৯ জুলাইয়ের বৈঠকে কঠোর দমননীতির সিদ্ধান্তে সম্পৃক্ততা, প্রাণঘাতী অস্ত্র ও হেলিকপ্টার ব্যবহারের পরিকল্পনা, টেলিভিশনে দমননীতির সমর্থন এবং কুষ্টিয়ায় ছয়জনের হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার মতো অভিযোগও ছিল। তবে ট্রাইব্যুনাল এসবের মধ্যে পাঁচটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি বলে রায়ে উল্লেখ করেছে।

মামলাটিতে ইনু ছিলেন একমাত্র আসামি। ২০২৫ সালের ২ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে আটটি অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। বিচার চলাকালে প্রসিকিউশনের ১০ জন সাক্ষী ও আসামিপক্ষের দুইজন সাক্ষ্য দেন।

এখন ঘোষিত সাজা বাড়ানোর জন্য প্রসিকিউশনের আপিলের বিষয়টি পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: