ব্রেকিং

জামায়াতের নেতৃত্বে ১১ দলের কর্মসূচির ওপর নজর রাখছে বিএনপি

Sharmin Sultana Sharmin Sultana ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯:৫৯ AM BST ৩০ বার পঠিত
জামায়াতের নেতৃত্বে ১১ দলের কর্মসূচির ওপর নজর রাখছে বিএনপি

collected

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ১১ দলের ধারাবাহিক কর্মসূচির ওপর নজর রাখছে বিএনপি। তবে আপাতত এসব কর্মসূচিকে বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করছে না দলটি। একই সঙ্গে বিরোধী দলগুলোর কর্মসূচির পাল্টা কোনো কর্মসূচি দেওয়ার পরিকল্পনাও নেই বলে জানিয়েছেন বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা।

প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বিএনপির একাধিক নেতার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, সংসদ ও রাজনৈতিক বক্তব্যের মাধ্যমে বিরোধীদের কর্মসূচির বিষয়ে নিজেদের অবস্থান জানানো হলেও রাজপথে পাল্টা কর্মসূচি দেওয়ার প্রয়োজন মনে করছে না দলটি।

বিএনপির নেতাদের ভাষ্য, সরকারে থেকে বিরোধীদের কর্মসূচির জবাবে পাল্টা কর্মসূচি দেওয়ার চেয়ে সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলোর সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তবে দলের একটি অংশ মনে করে, জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও দ্রব্যমূল্যের মতো জনসম্পৃক্ত ইস্যুতে বিরোধীরা ধারাবাহিকভাবে মাঠে থাকলে বিষয়টি উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

জামায়াতের নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোট জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে কর্মসূচি পালন করছে। ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত লংমার্চের পর জোটটি পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বিভাগীয় শহর অভিমুখেও একই ধরনের কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে।

এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রথম আলোকে বলেন, বিরোধী দলের লংমার্চকে তাঁরা গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ হিসেবে দেখছেন। তাঁর ভাষ্য, রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করা সবার অধিকার এবং বিএনপি বিষয়টিকে সেভাবেই দেখছে।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বিএনপির অবস্থানের সমালোচনা করেছেন। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, বিরোধী দলের কর্মসূচিকে গুরুত্ব না দিলে সংসদে এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানানোর প্রয়োজন হতো না। তিনি বিএনপির পাল্টা কর্মসূচি দেওয়ার সক্ষমতা ও আগের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

জ্বালানি সংকট নিয়ে ১১ দলের লংমার্চের সমালোচনা করেছেন সরকারি দলের নেতারাও। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁদের বক্তব্যে লংমার্চের যৌক্তিকতা, জ্বালানি সংকটের বাস্তবতা এবং সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের বিষয়গুলো উঠে এসেছে।

পাল্টা কর্মসূচির প্রয়োজন দেখছে না বিএনপি

বিএনপির উচ্চপর্যায়ের নেতাদের ভাষ্য, বিরোধী দলগুলোর ধারাবাহিক কর্মসূচির কারণে এখন পর্যন্ত এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি, যার জন্য দলকে পাল্টা কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামতে হবে।

তাঁদের মতে, রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন বিরোধী দলগুলোর অধিকার। তবে কোনো কর্মসূচির কারণে জনদুর্ভোগ বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে সরকার পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। আপাতত সরকারি কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক বক্তব্যের মাধ্যমে বিরোধীদের কর্মসূচির বিষয়ে অবস্থান জানানো হচ্ছে।

তবে বিএনপির কিছু নেতা মনে করেন, জনসম্পৃক্ত ইস্যুতে বিরোধীরা নিয়মিত কর্মসূচি চালিয়ে গেলে সরকারের পক্ষ থেকে এসব বিষয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যাখ্যা আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার প্রয়োজন হতে পারে।

সাংগঠনিক তৎপরতা নিয়েও আলোচনা

বিরোধী দলগুলো ধারাবাহিক কর্মসূচিতে মাঠে থাকলেও বিএনপির সাংগঠনিক তৎপরতা নিয়ে দলের ভেতরে আলোচনা রয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের কেউ কেউ নিজ নিজ এলাকায় সক্রিয় থাকলেও কেন্দ্রীয়ভাবে বড় ধরনের মাঠপর্যায়ের কর্মসূচি এখনো দৃশ্যমান নয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ক্ষমতায় আসার পর দলীয় সংগঠনের কার্যক্রম কতটা সক্রিয় রয়েছে, সেই প্রশ্নও বিএনপির সামনে রয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতাদের একটি অংশ মন্ত্রিসভা, সংসদ ও প্রশাসনিক কাজে ব্যস্ত রয়েছেন।

সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির মাঠপর্যায়ের সাংগঠনিক তৎপরতা কতটা বাড়ে, সেটিও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। একই সময়ে বিরোধী দলগুলো নিয়মিত কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের রাজনৈতিক উপস্থিতি জানান দেওয়ায় ক্ষমতাসীন দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: