collected
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিক খালেদ মুহিউদ্দীনের একটি টকশোর ভিডিও ছড়িয়ে দিয়ে দাবি করা হচ্ছে, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম অল্টারনেটিভসের সংগঠক মাহফুজ আলম বলেছেন, ‘আমি জাতির কাছে ক্ষমা চাই, ইউনূস আমাকে ব্যবহার করেছে।’ তবে ফ্যাক্টচেক সংস্থা রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে দাবিটির সত্যতা পাওয়া যায়নি।
রিউমর স্ক্যানারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচিত ভিডিওটি পর্যালোচনা করে মাহফুজ আলমকে এমন কোনো বক্তব্য দিতে শোনা যায়নি। বরং টকশোর ওই পর্বে তিনি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পক্ষ থেকে তাকে জুলাই আন্দোলনের ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে উপস্থাপনের বিষয়ে আপত্তি ও সমালোচনা করেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, খালেদ মুহিউদ্দীনের নামের ইউটিউব চ্যানেলে গত ১৮ জুন মাহফুজ আলমের সাক্ষাৎকারভিত্তিক টকশোর ওই পর্বটি প্রকাশ করা হয়েছিল। পুরো অনুষ্ঠানটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সেখানে মাহফুজ আলমকে আলোচিত দাবির ভাষায় ‘আমি জাতির কাছে ক্ষমা চাই, ইউনূস আমাকে ব্যবহার করেছে’ বলতে শোনা যায়নি।
টকশোতে মাহফুজ আলম মূলত তাকে জুলাই আন্দোলনের ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে উপস্থাপনের বিষয়টি নিয়ে নিজের আপত্তির কথা তুলে ধরেন। অর্থাৎ ভিডিওতে তার বক্তব্যের বিষয়বস্তু এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দাবির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
রিউমর স্ক্যানার আরও জানিয়েছে, মাহফুজ আলমের ফেসবুক অ্যাকাউন্টও পর্যালোচনা করা হয়েছে। সেখানেও সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো পোস্ট পাওয়া যায়নি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বক্তব্যটির পক্ষে নির্ভরযোগ্য কোনো প্রমাণ মেলেনি।
ফ্যাক্টচেক সংস্থাটির অনুসন্ধানের ভিত্তিতে বলা যায়, খালেদ মুহিউদ্দীনের টকশোতে মাহফুজ আলম ‘আমি জাতির কাছে ক্ষমা চাই, ইউনূস আমাকে ব্যবহার করেছে’ বলেছেন—এমন দাবি সঠিক নয়। প্রচারিত ভিডিও বা টকশোর প্রকৃত বক্তব্যের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দাবিটির মিল পাওয়া যায়নি।