নকল ব্যান্ডরোলে সিগারেট উৎপাদন, ভার্গো টোব্যাকোর ৭২ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি উদঘাটন

Sharmin Sultana Sharmin Sultana ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১:৫৪ PM BST ৩২ বার পঠিত
নকল ব্যান্ডরোলে সিগারেট উৎপাদন, ভার্গো টোব্যাকোর ৭২ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি উদঘাটন

collected

নকল ব্যান্ডরোল ব্যবহার করে সিগারেট উৎপাদন ও বাজারজাতের মাধ্যমে সাড়ে ৭২ কোটি টাকা ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক ফাঁকির তথ্য উদঘাটনের কথা জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ভার্গো টোব্যাকোর কারখানা ও একটি গুদামে অভিযান চালিয়ে এসব তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে ভ্যাট গোয়েন্দা।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এনবিআর এ তথ্য জানায়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২ আগস্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভ্যাট গোয়েন্দার দুটি দল ভার্গো টোব্যাকোর কারখানা ও একটি গুদামে একযোগে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় কারখানার প্রধান ফটক বাইরে থেকে বন্ধ থাকলেও ভেতরে উৎপাদন কার্যক্রম চলছিল বলে দেখতে পায় গোয়েন্দা দল।

বারবার গেট খোলার অনুরোধে সাড়া না পাওয়ায় গোয়েন্দা দলের সদস্যরা দেয়াল টপকে কারখানার ভেতরে প্রবেশ করেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে কারখানা চত্বরে ধোঁয়া দেখে সেখানে গিয়ে ব্যবহৃত ব্যান্ডরোল ও নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত সিগারেট পুড়িয়ে ফেলার বিষয়টি দেখতে পান তারা।

পোড়ানো সিগারেট ও ব্যান্ডরোলের বিষয়ে প্রয়োজনীয় দলিল দেখাতে বলা হলেও সংশ্লিষ্টরা তা দেখাতে পারেননি বলে জানিয়েছে ভ্যাট গোয়েন্দা। এ ধরনের পণ্য ধ্বংসের জন্য বিভাগীয় কর্মকর্তার অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না জানতে চাইলে কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি বলেও জানানো হয়।

পরে প্রতিষ্ঠানটির জেনারেল ম্যানেজার লিখিত বিবৃতিতে আনুমানিক ৫০ লাখ শলাকা নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত সিগারেট পুড়িয়ে ফেলার কথা জানান। গোয়েন্দা দল পোড়া ব্যান্ডরোলের অবশিষ্টাংশ আলামত হিসেবে জব্দ করে।

এ ছাড়া কারখানা ও পাশের গুদামে তল্লাশি চালিয়ে ব্যবহৃত স্ট্যাম্প ও ব্যান্ডরোল, সিগারেট উৎপাদনের বিভিন্ন কাঁচামাল এবং তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। অভিযানের সময় কিছু বিদেশি ব্র্যান্ডের সিগারেটের নমুনা ও খালি প্যাকেটও পাওয়া যায় বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

জব্দ করা মোবাইল ফোনের চ্যাট হিস্ট্রি, বিক্রয়সংক্রান্ত বার্তা ও হিসাবের ছবি বিশ্লেষণ করে ভ্যাট গোয়েন্দা দাবি করেছে, প্রতিষ্ঠানটি বৈধ স্ট্যাম্প ও ব্যান্ডরোল ব্যবহারের পাশাপাশি ব্যবহৃত স্ট্যাম্প ও ব্যান্ডরোল ব্যবহার করে গোপনে সিগারেট উৎপাদন ও বাজারজাত করে আসছিল।

এ ছাড়া উৎপাদিত সিগারেটের একটি বড় অংশ কোনো ভ্যাট চালান ছাড়াই বাজারে সরবরাহ করা হতো বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

উদ্ধার করা পণ্য ও পাওয়া তথ্য-উপাত্তের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক বাবদ প্রায় সাড়ে ৭২ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির তথ্য উদঘাটিত হয়েছে বলে এনবিআর জানিয়েছে।

ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

অভিযানে অংশ নেওয়া ভ্যাট গোয়েন্দার এক কর্মকর্তা জানান, তামাকজাত পণ্যের অবৈধ উৎপাদন ও বাজারজাত বন্ধ এবং জাল স্ট্যাম্প ও ব্যান্ডরোল ব্যবহারের মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি প্রতিরোধে এনবিআরের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশব্যাপী অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: