collected
অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম কম বলে দাবি করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রিজভী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জ্বালানি খাতে ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে এবং দাম সমন্বয়ের পরও লোকসান হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম এখনো কম। এ সময় তিনি বিভিন্ন দেশের জ্বালানি তেলের দামের তুলনামূলক তথ্য তুলে ধরেন।
নতুন দামে জ্বালানি তেল
রিজভীর বক্তব্যের দিন থেকেই দেশে নতুন জ্বালানি তেলের দাম কার্যকর হয়েছে। সরকারের নতুন নির্ধারিত দামে প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকা। এর আগে এসব জ্বালানির দাম ছিল যথাক্রমে ১১৫, ১৩৫, ১৪০ ও ১৪৫ টাকা।
সরকার দাম বাড়ানোর কারণ হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কথা জানিয়েছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের হিসাবে, মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগের দাবি
রিজভী বলেন, সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে জ্বালানি সংকট মোকাবিলার চেষ্টা করছে। কম দামে কীভাবে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বিরোধী দলের লংমার্চ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সরকারের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত বিভিন্ন বক্তব্যের সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে এক দফার হুঁশিয়ারি দেওয়া হলে বিএনপি হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না বলেও মন্তব্য করেন।
নাশকতা নিয়ে রিজভীর অভিযোগ
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বাসে আগুন ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাকে পরিকল্পিতভাবে দেশ অস্থিতিশীল করার ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ বলে দাবি করেন রিজভী।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচি ও জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপগুলোকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্য ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।
তবে এসব অভিযোগ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের রাজনৈতিক বক্তব্য। সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলোর বিষয়ে তদন্ত বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের ভিত্তিতে পৃথকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।