ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানের টি-টুয়েন্টি ব্যাটিংয়ে দীর্ঘদিনের ধীরগতির শুরু ও আগ্রাসনের ঘাটতি নিয়ে আলোচনা নতুন নয়। পাওয়ার প্লেতে রান তোলার গতি কম থাকা এবং শুরুতে অতিরিক্ত সতর্কতার কারণে দলটি বারবার সমস্যায় পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তরুণ ব্যাটসম্যান মাজ সাদাকাতকে সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
টি-টুয়েন্টিতে অন্তত এক হাজার রান করা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে গড় ৩০-এর বেশি এবং স্ট্রাইক রেট ১৫০-এর বেশি—এমন ব্যাটসম্যানদের তালিকায় পাকিস্তানের একমাত্র প্রতিনিধি সাদাকাত। গত এক মাসে আট ইনিংসে ৪৫১ রান করে ১৯৪.৩৯ স্ট্রাইক রেট নিয়ে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন তিনি। সিপিএলে জ্যামাইকা কিংসম্যানের হয়ে এলিমিনেটর ও ফাইনালে সেঞ্চুরিও করেছেন এই ব্যাটসম্যান।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও ইতোমধ্যে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন সাদাকাত। এশিয়ান গেমসে টি-টুয়েন্টি অভিষেকের পর পাকিস্তানের হয়ে এখন পর্যন্ত পাঁচটি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজে প্রথম দুই টি-টুয়েন্টিতে দুটি ফিফটি করেন, যার একটিতে ৯৬ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন।
সাদাকাত মূলত ওপেনার হলেও প্রয়োজনে তিন নম্বরেও ব্যাট করতে পারেন। পাকিস্তানের ওপেনারদের শুরুতে ধীরগতির ব্যাটিংয়ের কারণে পাওয়ার প্লেতে যে ঘাটতি তৈরি হয়, তিন নম্বরে নেমে তা পূরণ করার সুযোগ রয়েছে তাঁর। একই সঙ্গে ওপেনাররা ভালো শুরু এনে দিলে সেই গতিকে আরও এগিয়ে নেওয়ার সামর্থ্যও রয়েছে এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের।
পেস ও স্পিন—দুই ধরনের বোলিংয়ের বিরুদ্ধেই সাদাকাতের কার্যকারিতা তাঁর ব্যাটিংয়ের আরেকটি বড় শক্তি। সব ধরনের টি-টুয়েন্টিতে পেসারদের বিপক্ষে তাঁর ব্যাটিং গড় ৩৭.২১ এবং রান তোলার হার ১০.৩৯। স্পিনারদের বিপক্ষে গড় ৩৭.৫৮ এবং রান তোলার হার ৯.৪৪।
তবে মাত্র পাঁচটি আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টি খেলা সাদাকাতকে এখনই পাকিস্তানের তিন নম্বর পজিশনের স্থায়ী সমাধান বলা কিছুটা তাড়াহুড়ো হবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিপক্ষের বোলাররা তাঁর ব্যাটিং বিশ্লেষণ করে নতুন কৌশল নিয়ে আসবে। সেই চ্যালেঞ্জ সামলে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে পাকিস্তানের টি-টুয়েন্টি ব্যাটিংয়ে দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন এই তরুণ।