collected
পঞ্চগড় জেলা শহরে বিএনপির দুই সংসদ সদস্যের সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই পথচারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে পাঁচজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
রোববার রাত সাড়ে নয়টার পর জেলা শহরের ডোকরোপাড়া-মির্জা রুহুল আমিন (এমআর) কলেজ মোড় এলাকায় পঞ্চগড়-তেঁতুলিয়া মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার কারণে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ ও দলীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের সমর্থকেরা ডোকরোপাড়া-এমআর কলেজ মোড় এলাকায় একটি মিষ্টির দোকানে অবস্থান করছিলেন। এ সময় মিঠাপুকুর-তেঁতুলিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য নওশাদ জমিরের সমর্থকেরা মিছিল নিয়ে পঞ্চগড় বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন।
মিছিলটি এমআর কলেজ মোড়ে পৌঁছালে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। পরে উভয় পক্ষের নেতা-কর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে মহাসড়কের দুই পাশে অবস্থান নেন।
পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. রেজওয়ানুল্লাহ জানান, সংঘর্ষের পর বেশ কয়েকজন আহত ব্যক্তি হাসপাতালে আসেন। তাঁদের বেশির ভাগের মাথায় আঘাত ও রক্তক্ষরণ হয়েছে। কয়েকজনের মাথায় সেলাই দিতে হয়েছে।
আহত পথচারী সাফাত কবির (২১) একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় প্রতিনিধি এবং জীবন রায় (২২) পঞ্চগড় নার্সিং ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী। আহত অন্যরা হলেন রোকনুজ্জামান জাপান (৩৫), আবদুল বাতেন (৪৫), শামীম ইসলাম (২৮), সাক্ষর (১৮), পাক্কু (২২), ময়নুল (২৮), তপু (১৮), মিলন (১৮), সৌমিক (১৯), ফরহাদ (১৮), করিম আখতার (৪৪), জিসান (১৭) ও নুরনবী চৌধুরী (৩৮)।
রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত আহতদের মধ্যে রোকনুজ্জামান জাপান, আবদুল বাতেন, শামীম ইসলাম, সাক্ষর ও ময়নুলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
দুপুরের হট্টগোলের জেরে রাতে সংঘর্ষের অভিযোগ
এর আগে রোববার দুপুরে জেলা বিএনপি কার্যালয়ে একটি মতবিনিময় সভায় বোদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ আসাদের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও হট্টগোল হয়। ওই সময় সমাজকল্যাণ, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের কয়েকজনের ভাষ্য, দুপুরের ওই ঘটনার জেরেই রাতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে আহত জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রোকনুজ্জামান জাপান পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের পক্ষের নেতা। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি অভিযোগ করেন, দিনের বেলা একজন জ্যেষ্ঠ বিএনপি নেতার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে হট্টগোলের প্রতিবাদে তাঁরা রাতে একত্র হয়েছিলেন। এ সময় জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব মনিরুজ্জামান মানিকের নেতৃত্বে তাঁদের ওপর হামলা করা হয় বলে তাঁর দাবি।
অন্যদিকে মনিরুজ্জামান মানিকের অভিযোগ, রাতে নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে কয়েকজন একত্র হওয়ার সময় তাঁরা জানতে পারেন, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রোকনুজ্জামান জাপান পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামীম ইসলামকে মারধর করেছেন। এরপর শামীমকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে তাঁদের ওপর লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পঞ্চগড় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিরুল ইসলাম বলেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক নিয়োগকে কেন্দ্র করে দুপুরে মন্ত্রীর উপস্থিতিতে কথা-কাটাকাটি হয়েছিল। পরে সেখানেই বিষয়টি সমাধান করা হয়। তাঁর ধারণা, ওই ঘটনার রেশ ধরে রাতে সংঘর্ষ হয়ে থাকতে পারে। দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের সামলাতে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জেলা বিএনপির পক্ষ থেকেও উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শইমী ইমতিয়াজ জানিয়েছেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সংঘর্ষের সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।