প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত, ৩ লাখ প্রার্থীর দায় কে নেবে: হাসনাত

Sharmin Sultana Sharmin Sultana ১০ অক্টোবর ২০২৬, ৩:২৪ PM BST ৫৫ বার পঠিত
প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত, ৩ লাখ প্রার্থীর দায় কে নেবে: হাসনাত

collected

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষা প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে স্থগিত হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ। পরীক্ষা স্থগিতের কারণে প্রায় তিন লাখ চাকরিপ্রার্থীর আর্থিক ক্ষতি ও ভোগান্তির দায় সরকারকে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

শনিবার (১০ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক পোস্টে সরকারের উদ্দেশে প্রশ্ন তুলে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, তিন লাখ তরুণকে যে হয়রানি ও আর্থিক ক্ষতির মধ্যে ফেলা হয়েছে, তার দায় কে নেবে? তাঁর দাবি, দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রায় তিন লাখ বেকার চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে ঢাকায় এসেছিলেন। কেউ টিউশনির টাকা জমিয়ে, আবার কেউ ধারদেনা করে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন।

হাসনাত আবদুল্লাহর ভাষ্য অনুযায়ী, পরীক্ষার আগের রাত থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর ছড়িয়ে পড়ে। এরপর শনিবার প্রায় ১০০টি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীরা প্রবেশ করার পর পরীক্ষা শুরুর মাত্র পাঁচ মিনিট আগে প্রশ্নফাঁসের সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়ে পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হয়। এ ঘটনাকে চাকরিপ্রার্থীদের জন্য নির্মম পরিস্থিতি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

এনসিপির এই নেতা আরও বলেন, পরীক্ষা পুনরায় আয়োজন করতে সরকারের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হবে, যা জনগণের অর্থ। একই সঙ্গে পরীক্ষার্থীদের আবারও ঢাকায় আসতে যাতায়াত ও অন্যান্য খরচ বহন করতে হবে। এতে তাঁদের আর্থিক চাপের পাশাপাশি মানসিক হতাশাও বাড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ভবিষ্যতে পুনরায় পরীক্ষা আয়োজন করা হলেও প্রশ্নপত্র ফাঁসের আশঙ্কা নিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

হাসনাত আবদুল্লাহর দাবি, দীর্ঘদিন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও নিয়োগ কার্যক্রমের সীমাবদ্ধতার পর একটি নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে গেলেও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সামনে এসেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০টির বেশি পদের বিপরীতে প্রায় তিন লাখ পরীক্ষার্থী অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। তিনি প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, প্রশ্নফাঁসে জড়িত আমলা, সরকারি কর্মকর্তা কিংবা রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে হবে। তদন্তে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা, গ্রেপ্তার এবং দ্রুত বিচার শেষে শাস্তি কার্যকরের দাবি জানান তিনি।

এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, প্রশ্নফাঁসের চক্র নির্মূল করতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীকে দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে পদত্যাগ করতে হবে। তবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ, এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রতিবেদনে বিস্তারিত কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: