collected
বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় মিষ্টি সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করবেন এবং স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। বিষয়টি নিয়ে একই দিনে একাধিক সংবাদমাধ্যমেও পদত্যাগের নির্দেশের খবর প্রকাশিত হয়েছে।
রাশেদ খান তাঁর পোস্টে দাবি করেন, বিএনপি কোনো অপরাধীকে প্রশ্রয় দেয় না এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। মিষ্টির পদত্যাগের সিদ্ধান্তকে তিনি সেই অবস্থানের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে তাঁর পোস্টের অন্যান্য রাজনৈতিক মন্তব্যগুলো তাঁর নিজস্ব বক্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করাই প্রাসঙ্গিক।
মিষ্টির পদত্যাগের বিষয়টি সামনে আসে রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার পর। গত ২৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও স্থাপনা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মিষ্টির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নিয়ে আলোচনা তৈরি হলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁর সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়টি তদন্তের আওতায় ছিল। মিষ্টি নিজেও হামলা ও ভাঙচুরের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
রাড্ডা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, মুখোশধারী একটি দল স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রবেশ করে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় এবং পরে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে স্থাপনার বিভিন্ন অংশ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তদন্তের কথা জানানো হয়েছিল এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়।
মিষ্টির বিরুদ্ধে এর আগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ ও বিতর্কের কথা সংবাদ প্রতিবেদনে এসেছে। এর মধ্যে সাবেক কাউন্সিলর থাকাকালে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও জমি দখলসংক্রান্ত অভিযোগের কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অভিযোগকে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে উপস্থাপন না করে অভিযোগ হিসেবেই উল্লেখ করা প্রয়োজন, কারণ অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইনি সিদ্ধান্ত বা প্রমাণের বিষয় আলাদা।
রাশেদ খান তাঁর পোস্টে জামায়াতের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে একটি তুলনাও টেনেছেন এবং দলীয় নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা বা দলের নাম ব্যবহার করে ব্যক্তিগত স্বার্থে অনিয়মে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে দলীয় নেতৃত্ব ব্যবস্থা নিতে পারে। এসব বক্তব্য রাশেদ খানের রাজনৈতিক মন্তব্য হিসেবে বিবেচিত হবে।
এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি পরে স্পিকারের কাছে তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
ফলে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির সংসদ সদস্য পদ ছাড়ার প্রক্রিয়া সামনে এসেছে। তাঁর পদত্যাগের পর সংরক্ষিত নারী আসনটি কীভাবে পূরণ হবে, সে বিষয়ে পরবর্তী সংসদীয় প্রক্রিয়াই চূড়ান্ত বিষয় নির্ধারণ করবে।