রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা: আইনি ব্যবস্থা নিয়ে কঠোর শাস্তির দাবি শফিকুর রহমানের

Sharmin Sultana Sharmin Sultana ১ অক্টোবর ২০২৬, ৫:০৭ PM BST ৩৬ বার পঠিত
রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা: আইনি ব্যবস্থা নিয়ে কঠোর শাস্তির দাবি শফিকুর রহমানের

collected

রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় সরকার ও সরকারি দলের নেওয়া সাংগঠনিক পদক্ষেপকে যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়ে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুর ২টা ২৬ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র দখলের ঘটনায় সরকার ও সরকারি দল সাংগঠনিক পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। তবে তার মতে, এত বড় ঘটনার ক্ষেত্রে শুধু সাংগঠনিক ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

দেশবাসী এ ঘটনায় দৃশ্যমান ও বিশ্বাসযোগ্য আইনি পদক্ষেপ দেখতে চায় বলেও মন্তব্য করেন জামায়াত আমীর। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি টেকসইভাবে পুনর্নির্মাণের দায়িত্ব সরকারকে নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর মিরপুর-১ এলাকায় রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। এ সময় ভারী যন্ত্র ব্যবহার করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির একটি স্থায়ী ও তিনটি আধা-পাকা ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়। পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা ও কার্যালয়ে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম লুটের অভিযোগও ওঠে। পরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জায়গায় একটি সমিতির সাইনবোর্ড টাঙানোর ঘটনাও সামনে আসে।

ঘটনার পর রাড্ডার নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আক্তার রাজধানীর শাহ আলী থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ কয়েক দফায় অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে এবং লুট হওয়া মালামালের একটি অংশ উদ্ধার করার কথা জানায়। ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশ নয়জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছিল।

হামলার সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। পুলিশের উপস্থিতির মধ্যে কীভাবে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটল এবং তা ঠেকাতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না, সেটি খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ৩ অক্টোবরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এদিকে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও তদন্তাধীন ছিল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছিলেন, তদন্তে কারও সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। তবে সংসদ সদস্য মিষ্টি এ ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন বলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানিয়েছে।

রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ঘটনা নিয়ে তদন্ত ও আইনগত কার্যক্রম এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির ভবিষ্যৎ কার্যক্রম এবং পুনর্নির্মাণ নিয়েও আলোচনা চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং তদন্তের ফলাফল সামনে এলে বিষয়টি সম্পর্কে আরও স্পষ্টতা পাওয়া যেতে পারে।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: