সাইবার আইন সংশোধনী প্রত্যাহারের আহ্বান গোলাম পরওয়ারের

Sharmin Sultana Sharmin Sultana ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২০ PM BST ৩০ বার পঠিত
সাইবার আইন সংশোধনী প্রত্যাহারের আহ্বান গোলাম পরওয়ারের

collected

সাইবার সুরক্ষা আইন-২০২৬-এর প্রস্তাবিত সংশোধনী প্রত্যাহার করে বর্তমান আইন বহাল রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। প্রস্তাবিত পরিবর্তন নিয়ে তিনি রাজনৈতিক নেতা ও সাংবাদিকদের হয়রানির আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ‘সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬: নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রণ নাকি বাকস্বাধীনতা দমন?’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে সেমিনারটি আয়োজন করা হয়।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারকে ‘মেজরিটির ভূতে’ ধরেছে। তাঁর দাবি, সংখ্যাগরিষ্ঠতার শক্তির ওপর নির্ভর করে সরকার এমন একটি সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিল গঠন করছে, যেখানে রাজনৈতিক নেতা ও সাংবাদিকদের আটকের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এ ধরনের পদক্ষেপ থেকে সরকারকে ফিরে আসার আহ্বান জানান তিনি।

সাইবার আইন সংশোধন নিয়ে আপত্তি

সাইবার আইনের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে গোলাম পরওয়ার বলেন, গত দুই দশকে আইসিটি আইন, ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন, সাইবার সিকিউরিটি আইন, সাইবার প্রোটেকশন অর্ডিন্যান্স এবং সাইবার সুরক্ষা আইনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের আইন ও বিধান এসেছে।

তিনি দাবি করেন, সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৫ আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিগত মানদণ্ডের দিক থেকে মোটামুটি গ্রহণযোগ্য ছিল। তবে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে দ্রুত নতুন কিছু সংশোধনী আনার উদ্যোগ নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সরকারের প্রস্তাবিত সংশোধনী নিয়ে বর্তমানে জনমত নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের নোটিশ অনুযায়ী, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ‘সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬’-এর সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে সর্বসাধারণের মতামত চাওয়া হয়েছে।

সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে আশঙ্কা

গোলাম পরওয়ার বলেন, আইনের বিভিন্ন ধারায় মানহানি, গুজব, অসত্য তথ্য, তল্লাশি ও জব্দের মতো বিষয় ব্যবহারের সুযোগ থাকলে এর অপব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে। তাঁর দাবি, এর মাধ্যমে রাজনৈতিক নেতা ও সাংবাদিকরা হয়রানির শিকার হতে পারেন।

তিনি প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো প্রত্যাহার করে বর্তমান আইন বহাল রাখার আহ্বান জানান। অন্যথায় জনগণের প্রতিক্রিয়ার মুখে সরকারকে রাজনৈতিকভাবে এর পরিণতি মোকাবিলা করতে হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিল নিয়ে প্রশ্ন

গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলে সরকারি কর্মকর্তা ও মন্ত্রীদের প্রতিনিধিত্ব থাকলেও সাংবাদিক প্রতিনিধি বা সংসদের বিরোধী দলের প্রতিনিধি রাখা হয়নি। এ কারণে কাউন্সিলের গঠন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তবে বিদ্যমান সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ১২ ধারায় জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিল গঠনের বিধান রয়েছে এবং এতে প্রধানমন্ত্রীকে চেয়ারম্যান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সেমিনারে গোলাম পরওয়ার রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণ ও আইন প্রণয়নের পাশাপাশি নাগরিকদের নৈতিক মূল্যবোধ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

দৈনিক সংগ্রামের সাবেক সম্পাদক, লেখক ও সাংবাদিক আবুল আসাদের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রফিকুজ্জামান রুমান।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি এলাহি নেওয়াজ খান সাজু, বিএফইউজের সাবেক মহাসচিব এম. আব্দুল্লাহ, বিএফইউজের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ড. রেজাউল করিম, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নাজমুন নাহার নিলু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়েরসহ অন্যরা।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: