শেখ হাসিনা ইস্যুতে ঢাকা-দিল্লির সমীকরণ, আলোচনায় ওয়াশিংটনও

Sharmin Sultana Sharmin Sultana ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫:১২ PM BST ৩১ বার পঠিত
শেখ হাসিনা ইস্যুতে ঢাকা-দিল্লির সমীকরণ, আলোচনায় ওয়াশিংটনও

collected

শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান, তাঁর প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশের অনুরোধ এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য নয়াদিল্লি সফর—এই তিনটি বিষয়কে ঘিরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের আলোচনায় নতুন গতি দেখা যাচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বক্তব্যও কূটনৈতিক সমীকরণে বাড়তি গুরুত্ব পেয়েছে। সেপ্টেম্বরের শেষভাগে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে সম্পর্ক পুনর্গঠনের বিষয়ে যোগাযোগ বাড়ার তথ্য এসেছে।

ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের ১৭ সেপ্টেম্বর ঢাকা সফর এবং এর পরপরই তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে আলোচনার খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে দোভালের সফরের নির্দিষ্ট এজেন্ডা প্রকাশ্যে বিস্তারিতভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে এ সফরের উদ্দেশ্য নিয়ে অনুমানের পরিবর্তে প্রকাশ্য তথ্যের মধ্যেই থাকা সমীচীন। অন্যদিকে ভারত ও বাংলাদেশ নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে তারেক রহমানের সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় সফরের সময় নিয়ে আলোচনা করছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ঢাকার জন্য শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বিষয় হয়ে আছে। বাংলাদেশ সরকার একাধিকবার ভারতকে শেখ হাসিনা ও অন্য পলাতক ব্যক্তিদের প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রত্যর্পণের অনুরোধ তারা প্রতিষ্ঠিত আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় পর্যালোচনা করছে। ভারতীয় কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, বিষয়টি দেশটির বিচারিক প্রক্রিয়ার সঙ্গেও সম্পর্কিত।

সম্ভাব্য তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়েও আগে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। আগস্টে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, সফরের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ প্রয়োজন এবং শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসহ কিছু বিষয়ে ভারতের পদক্ষেপকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পরে দুই দেশের মধ্যে আবারও যোগাযোগ বাড়ে এবং নভেম্বরের সম্ভাব্য সময় নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে সফরের চূড়ান্ত তারিখ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।

এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বক্তব্যও আলোচনায় এসেছে। সেপ্টেম্বরের ২৩ তারিখ নিউইয়র্কে এক ব্রিফিংয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের মধ্যে বড় ধরনের টানাপোড়েন তৈরি করেছে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন জানিয়েছে, শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো নির্দিষ্ট আনুষ্ঠানিক অবস্থান নেয়নি এবং বাংলাদেশ ও ভারতকে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান খুঁজে নেওয়ার প্রত্যাশা করে।

ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনা ইস্যুটি শুধু প্রত্যর্পণ বা আশ্রয়ের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই; এটি ঢাকা-দিল্লির সামগ্রিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের আলোচনার সঙ্গেও যুক্ত হয়েছে। সীমান্ত, বাণিজ্য, পানি, জ্বালানি, যোগাযোগ ও নিরাপত্তার মতো দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলোর পাশাপাশি দুই দেশের রাজনৈতিক আস্থার প্রশ্নও সামনে রয়েছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশের জন্য ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক কৌশলগত বাস্তবতাও গুরুত্বপূর্ণ। বঙ্গোপসাগর, ভারত মহাসাগরীয় যোগাযোগ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং চীন-ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অবস্থান কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ঢাকা-দিল্লির সম্পর্কের যেকোনো বড় পরিবর্তনের আঞ্চলিক প্রভাবও থাকতে পারে।

বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়েছে—এমন প্রমাণ প্রকাশ্যে নেই। তবে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ ও সম্ভাব্য শীর্ষ বৈঠক নিয়ে আলোচনা চলছে। একই সময়ে ওয়াশিংটন প্রকাশ্যে কোনো নির্দিষ্ট সমাধান চাপিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে ঢাকা ও দিল্লির আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির প্রত্যাশা জানিয়েছে।

সামনের সময়ে সম্ভাব্য তারেক রহমানের নয়াদিল্লি সফর হলে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভবিষ্যৎ এবং অন্যান্য সহযোগিতার বিষয়গুলো আলোচনায় কতটা গুরুত্ব পায়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তবে সফরের চূড়ান্ত তারিখ, আলোচনার এজেন্ডা কিংবা কোনো সম্ভাব্য সমঝোতা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: