collected
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ ছেড়ে ভারতে অবস্থান নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ সরকার তাকে ফেরাতে ভারতের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান সম্প্রতি বলেছেন, শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়টি বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় ইস্যু এবং এ নিয়ে আলোচনা চলছে।
এর মধ্যে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য ও প্রবীণ আইনজীবী ফজলুর রহমান। যুগান্তরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শক্তির সহযোগিতা ছাড়া শেখ হাসিনার দেশে ফিরে আসার সম্ভাবনা নেই।
ফজলুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন কি না—এটিকে তিনি বর্তমান পরিস্থিতির একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখছেন না। তার মতে, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কোনো শক্তি তাকে সমর্থন করলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে এবং সে ক্ষেত্রে তার দেশে ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে এমন কোনো সমর্থন বা সমঝোতা হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।
শেখ হাসিনাকে ঘিরে কোনো রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক সমঝোতা হলে বাংলাদেশের পরিস্থিতিতে তার প্রভাব পড়তে পারে বলেও মন্তব্য করেন ফজলুর রহমান। তিনি বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কোনো বৈঠক বা সমঝোতার মাধ্যমে রাজনৈতিক সমাধানের চেষ্টা হতে পারে। তবে এ ধরনের উদ্যোগের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য তিনি দেননি।
এদিকে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে সরকারের অবস্থানও সাম্প্রতিক সময়ে স্পষ্ট করা হয়েছে। ২৯ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান জানান, বাংলাদেশ সরকার তাকে ভারত থেকে ফেরত চায় এবং এ নিয়ে নয়াদিল্লির সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, বিষয়টি দ্বিপক্ষীয় হওয়ায় তৃতীয় কোনো দেশের সম্পৃক্ততার প্রয়োজন নেই।
এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কোনো কৌশলগত অস্পষ্টতা নেই। সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জানিয়েছিলেন, তিনি নিজে ফিরুন বা সরকার তাকে ফিরিয়ে আনুক—সরকার তার দেশে ফেরাকে চায়।
অন্যদিকে শেখ হাসিনা নিজেও চলতি বছরের জুনে এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ বছরই দেশে ফেরার কথা জানিয়েছিলেন। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি রাজনৈতিক সমাধানের পক্ষে থাকার কথাও বলেছেন।
ফজলুর রহমান আরও বলেন, শুধু শেখ হাসিনা দেশে ফিরলেই আওয়ামী লীগের রাজনীতি আগের অবস্থায় ফিরে যাবে—এমনটি ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। দলটির সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা দেশে ফিরে জনগণের কাছে গিয়ে আবার ভোট চাইলে তাদের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা কী হবে, সে প্রশ্নও তিনি তুলেছেন।
শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন নিয়ে সরকারের কূটনৈতিক উদ্যোগ, ভারতের অবস্থান এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি—এই তিনটি বিষয়ই এখন আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে বর্তমানে শেখ হাসিনা কবে বা কী প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে ফিরবেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো সরকারি সময়সূচি প্রকাশ করা হয়নি। বাংলাদেশ সরকার তাকে ফেরাতে ভারতের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে—এটিই সর্বশেষ সরকারি অবস্থান।