collected
শেখ মুজিবুর রহমানের নামে থাকা হলের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত না হওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট অধিবেশন থেকে ডাকসু নেতৃবৃন্দ ওয়াকআউট করেছেন বলে জানিয়েছেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম। বুধবার (১ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও শেয়ার করে তিনি এ তথ্য জানান।
ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে সাদিক কায়েম দাবি করেন, হলের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে শিক্ষার্থীদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্তের পরও তা পুনরায় পর্যালোচনার পর্যায়ে পাঠানো হয়েছে। এ কারণে ডাকসুর প্রতিনিধিরা সিনেট অধিবেশন থেকে বের হয়ে যান।
শেয়ার করা ভিডিওতে সাদিক কায়েমকে সিনেট অধিবেশনে বক্তব্য দিতে দেখা যায়। সেখানে তিনি শিক্ষার্থীদের পরিচয় ও সামাজিকভাবে হয়রানির বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, হলের নাম নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, সেটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জানানো হয়েছিল। তাঁর দাবি, শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া এগিয়েছিল।
সাদিক কায়েম ভিডিওতে আরও বলেন, প্রথমে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সভায় বিষয়টি অনুমোদিত হওয়ার পর সিন্ডিকেটে আলোচনা এবং পরে সিনেটে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তবে সিনেট অধিবেশনে এসে আবার বিষয়টি সিন্ডিকেট পর্যায়ে নেওয়ার কথা বলা হয় বলে তিনি দাবি করেন। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ডাকসু ভিপি তাঁর বক্তব্যে বলেন, শিক্ষার্থীদের পরিচয়ের কারণে তাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি বা চিহ্নিত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে—এমন উদ্বেগ রয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের নাম পরিবর্তনের দাবির সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক অভিজ্ঞতার বিষয়টিও যুক্ত করেন।
ভিডিওতে সাদিক কায়েম আরও দাবি করেন, বর্তমান সরকারের সময়ে দেশের বিভিন্ন অবকাঠামোর নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং শেখ মুজিবুর রহমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নামে থাকা স্থাপনার নাম নিয়েও পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করা এসব পরিবর্তনের সংখ্যা ও সরকারি সিদ্ধান্তের বিস্তারিত তথ্য ভিডিওতে উপস্থাপন করা হয়নি।
সিনেট অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে সাদিক কায়েম বলেন, শিক্ষার্থীরা নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তাদের মতামত জানিয়েছে। এরপরও বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মতামত উপেক্ষা করা হচ্ছে বলে ডাকসুর প্রতিনিধিরা মনে করছেন। এ কারণেই ছাত্র সংসদের প্রতিনিধি হিসেবে তাঁরা অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছেন বলে জানান তিনি।
এদিকে, হলের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিনেট অধিবেশনে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বা ডাকসু নেতৃবৃন্দের দাবির বিষয়ে প্রশাসনের অবস্থান কী—তা এই বক্তব্যে বিস্তারিত জানা যায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের দিকে নজর রয়েছে।