সিটি নির্বাচন ঘিরে সিলেট বিএনপিতে প্রকাশ্য হচ্ছে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব

Sharmin Sultana Sharmin Sultana ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৫ AM BST ৩২ বার পঠিত
সিটি নির্বাচন ঘিরে সিলেট বিএনপিতে প্রকাশ্য হচ্ছে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব

collected

সিলেট নগরকেন্দ্রিক বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব-বিভেদ সাম্প্রতিক সময়ে আরও প্রকাশ্য হয়ে উঠেছে বলে দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা জানিয়েছেন। এক পক্ষের অনুষ্ঠানে অন্য পক্ষের নেতাদের অনুপস্থিতি এবং পারস্পরিক দূরত্বের ঘটনায় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও বিভাজন তৈরি হচ্ছে বলে দলীয় নেতাদের ভাষ্য।

সর্বশেষ মঙ্গলবার সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দেওয়া নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। মহানগর বিএনপির নেতারা আয়োজনে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে অনুষ্ঠানে অংশ নেননি বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়।

তবে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, নাগরিক সংবর্ধনাটি দলীয় কোনো অনুষ্ঠান ছিল না; এটি সিটি করপোরেশনের নিজস্ব আয়োজন।

মহানগর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন পেতে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতা তৎপর রয়েছেন। দলীয় মনোনয়নকে কেন্দ্র করেই সাম্প্রতিক বিভেদের বড় অংশ তৈরি হয়েছে বলে তাঁদের ধারণা।

দলীয় নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সিলেটের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির ও প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর অনুসারীরা সক্রিয়। সাম্প্রতিক সময়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ূন কবীরের অনুসারী হিসেবে পরিচিত আরেকটি পক্ষও সক্রিয় হয়েছে বলে কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন।

সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের আলোচনায় রয়েছেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, মহানগর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকী, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাছিম হোসেইন, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক আহমেদ সিদ্দিকী এবং মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামানসহ কয়েকজন নেতা।

দলীয় নেতাদের ভাষ্য, সিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ঘিরে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে প্রতিযোগিতা ও দূরত্ব বেড়েছে। গত ১ সেপ্টেম্বর মহানগর বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয় উদ্বোধনের অনুষ্ঠানেও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে আমন্ত্রণ না জানানোর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।

এর আগে ২০২৫ সালের ২০ মে রেজাউল হাসান কয়েস লোদী ও ইমদাদ হোসেন চৌধুরীর পাল্টাপাল্টি তর্কে জড়িয়ে পড়ার ঘটনাও আলোচনায় আসে। এ নিয়ে তাঁদের কর্মী-সমর্থকেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পক্ষের অবস্থান তুলে ধরেন।

এ ছাড়া গত বছরের ১ ডিসেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসনের সুস্থতা কামনায় নাছিম হোসেইনের উদ্যোগে আয়োজিত এতিম শিশুদের মধ্যে খাবার বিতরণ কর্মসূচিতেও বিরোধের ঘটনা ঘটেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দ্বন্দ্বের পেছনে সিটি নির্বাচন

দলীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী। মনোনয়ন না পেলেও পরবর্তী সময়ে তাঁকে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক করা হয়। এরপর থেকেই সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে তাঁর প্রার্থিতার বিষয়টি আলোচনায় আসে।

মহানগর বিএনপির কয়েকজন নেতার ভাষ্য, কাইয়ুম চৌধুরীকে সিটি প্রশাসক করার পর নগর রাজনীতিতে তাঁর সঙ্গে আগে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখা কয়েকজন নেতা এখন দূরত্ব বজায় রাখছেন। তাঁদের মতে, সাম্প্রতিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নেতাদের অনুপস্থিতির ঘটনাও এর সঙ্গে সম্পর্কিত।

রাষ্ট্রপতির নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ না নেওয়ার বিষয়ে মহানগর বিএনপির সভাপতি নাছিম হোসেইন ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী বিজ্ঞপ্তিতে জানান, আয়োজকদের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে মহানগর বিএনপির অনেক নেতা অনুষ্ঠানে যাননি। তবে রাষ্ট্রপতিকে বিমানবন্দরে বরণসহ অন্যান্য কর্মসূচিতে তাঁরা অংশ নিয়েছেন।

অন্যদিকে রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, আন্দোলন-সংগ্রামে নির্যাতিতদের বড় একটি অংশকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এ কারণে তিনি অনুষ্ঠানে যাওয়ার বিষয়ে আপত্তি অনুভব করেছেন।

তবে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, নাগরিক সংবর্ধনা দলীয় কোনো বিষয় নয়; এটি সিটি করপোরেশনের নিজস্ব আয়োজন। তাঁর দাবি, বিএনপির মন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, সিটি নির্বাচনের দলীয় মনোনয়নকে কেন্দ্র করে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কি না, তা তিনি শুনেছেন; তবে বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন না।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: