collected
সরকার কথা না শুনলে আন্দোলন চলবে: শফিকুর রহমান
সরকার বিরোধী দলের কথা না শুনলে আন্দোলন চলবে এবং আন্দোলনের মাধ্যমেই এর ফয়সালা হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় রাজধানীর মগবাজারের আলফালাহ মিলনায়তনে জামায়াত বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
মতবিনিময় সভায় জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোট, দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, জনদুর্ভোগ, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, গ্যাস-সংকট, গার্মেন্টস শিল্প, বিরোধী দলের লংমার্চ এবং গণমাধ্যমের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন তিনি।
জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে ক্ষোভ
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দাম বাড়ানোর পর এর প্রভাব দেশের বিভিন্ন খাতে পড়ছে। দেশীয় পণ্যের দামও বাড়ছে এবং সাধারণ মানুষের ওপর এর ব্যাপক প্রভাব পড়ছে বলে দাবি করেন তিনি।
তার ভাষ্য, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বাইকচালক, যাত্রী ও পণ্য পরিবহন খাত সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অর্থনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য না থাকলে অন্যান্য দেশের সঙ্গে শুধু জ্বালানির দামের তুলনা করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
লংমার্চ ও ককটেল বিস্ফোরণ নিয়ে বক্তব্য
বিরোধী দলের লংমার্চ প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, চাইলে তারা আরও বড় পরিসরে কর্মসূচি করতে পারতেন। তাঁর দাবি, লংমার্চের দাবিগুলো কোনো একক দলের নয়, বরং জনগণের দাবি।
লংমার্চের আগে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় সরকারি দলের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, বিরোধী দলের কর্মসূচি বানচাল করার উদ্দেশ্যে কেউ এমন পরিস্থিতি তৈরি করে থাকতে পারে। তবে এসব বিষয়ে তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন।
সংসদে নোটিশ নিয়ে অভিযোগ
সংসদে বিরোধী দলের বিভিন্ন নোটিশ আলোচনায় আনা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন শফিকুর রহমান। জ্বালানি, সার, বিদ্যুৎ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, শিশু নির্যাতন ও হত্যা এবং নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির মতো বিষয়ে তারা নোটিশ দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
এসব জনস্বার্থের বিষয় সংসদে যথাযথ গুরুত্ব না পাওয়ার কারণেই বিরোধী দল রাজপথে আন্দোলনে নেমেছে বলে দাবি করেন তিনি।
গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান
মতবিনিময় সভায় গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন জামায়াত আমির। তিনি গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করে সাংবাদিকদের তথ্য যথাযথভাবে উপস্থাপনের আহ্বান জানান।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি অভিযোগ করেন, সাক্ষাৎকারের বক্তব্য অনেক সময় খণ্ডিতভাবে উপস্থাপন করা হয়। এতে বক্তব্যের মূল অর্থ পরিবর্তিত হয়ে পাঠক-দর্শকের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সরকারি সুবিধা নিয়েও বক্তব্য
সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য ও সংসদ সদস্যদের আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হলে জামায়াত তার বিরোধিতা করবে বলে জানান শফিকুর রহমান।
তিনি আরও দাবি করেন, নির্বাচনের পর এখন পর্যন্ত সরকারি খরচে বিদেশ সফর করেননি এবং সরকারি বাসায় বসবাসও করেন না। বরাদ্দকৃত বাসায় বিভিন্ন কূটনীতিক, ব্যবসায়ী, সংগঠন ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন বলে জানান তিনি।