collected
সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ সামাল দেওয়া এবং স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে নার্স ও মিডওয়াইফ নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি) ১০ম গ্রেডের দুটি পদের চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। এর আওতায় ১ হাজার ৫৬৬ জন সিনিয়র স্টাফ নার্স এবং ৯১৪ জন মিডওয়াইফ নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। দুই পদে মোট নিয়োগের সংখ্যা ২ হাজার ৪৮০।
তবে জনবলসংকটের মধ্যে সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগের প্রক্রিয়া দীর্ঘ প্রশাসনিক জটিলতায় পড়েছে। প্রায় সাত মাস আগে এ পদের নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু হলেও তথ্যের অসংগতির কারণে সংশোধিত চাহিদাপত্র পাঠাতে সময় লেগেছে। অন্যদিকে, মিডওয়াইফ নিয়োগের চাহিদাপত্র সম্প্রতি পিএসসিতে পাঠানো হয়েছে। চাকরিপ্রার্থীরা দ্রুত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব (নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অনুবিভাগ) খুরশীদ আলম জানান, চলতি বছরের ২৪ মার্চ ১ হাজার ৫৬৬ জন সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগের চাহিদাপত্র প্রথমবার পিএসসিতে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু পদসংখ্যা ও আনুষঙ্গিক তথ্যের কিছু অসংগতি চিহ্নিত করে পিএসসি চিঠি পাঠায়। পরে সেসব সমস্যা সংশোধন করে গত ৭ অক্টোবর নতুন চাহিদাপত্র পুনরায় পিএসসিতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রায় সাত মাস ধরে এ প্রক্রিয়া চলায় প্রশাসনিক কাজের গতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন চাকরিপ্রার্থীরা। তাঁদের মতে, স্বাস্থ্য খাতে জরুরি ভিত্তিতে জনবল নিয়োগের প্রয়োজন থাকলে দাপ্তরিক ভুল দ্রুত সংশোধন করা দরকার। এতে নিয়োগপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা কমবে এবং প্রার্থীদের অনিশ্চয়তাও দূর হবে।
সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগের পাশাপাশি মাতৃ ও নবজাতক সেবা জোরদার করতে ৯১৪ জন মিডওয়াইফ নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন হাসপাতালে মিডওয়াইফের ১ হাজার ১৫টি অনুমোদিত পদ শূন্য রয়েছে। বিধি অনুযায়ী ১০ শতাংশ পদ সংরক্ষণ করে বাকি ৯১৪টি পদের চাহিদাপত্র ৫ অক্টোবর পিএসসিতে পাঠিয়েছে নার্সিং সেবা-১ শাখা।
গত ১১ অক্টোবর জার্মানির বার্লিনে মিডওয়াইফারি-সংক্রান্ত এক গোলটেবিল বৈঠকে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, প্রতিটি গর্ভবতী মা ও নবজাতকের জন্য নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও জীবনরক্ষাকারী সেবা নিশ্চিত করতে মিডওয়াইফরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পর্যায়ক্রমে ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগে সরকারের প্রতিশ্রুতির কথাও জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মিডওয়াইফদের দক্ষতা বাড়াতে দেশের ৬২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো রূপান্তর এবং প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ও নীতিগত উদ্যোগের পাশাপাশি নিয়োগপ্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি উঠেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক নার্সিং চাকরিপ্রার্থী বলেন, দাপ্তরিক ভুল সংশোধনেই যদি ছয়-সাত মাস লেগে যায়, তাহলে চূড়ান্ত নিয়োগ পেতে কত সময় লাগবে, তা নিয়ে তাঁরা উদ্বিগ্ন।
পিএসসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মতিউর রহমান জানান, কমিশনের নিয়ম ও চেকলিস্ট অনুযায়ী নিয়োগসংক্রান্ত নথিতে প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিক থাকা জরুরি। তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে বিধি অনুযায়ী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
স্বাস্থ্য খাতে জনবলসংকট কমাতে ১ হাজার ৫৬৬ জন সিনিয়র স্টাফ নার্স ও ৯১৪ জন মিডওয়াইফ নিয়োগের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হলেও চূড়ান্ত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সময় এখনো নির্দিষ্ট হয়নি। ফলে পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা।