collected
উচ্চবেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশ থেকে লোকজনকে রাশিয়ায় নিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মানবপাচারের অভিযোগে একটি চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মিজান ও আবু তাহের লিন্টু। এসআরবির দাবি, এই চক্রের মাধ্যমে প্রতারণার শিকার হয়েছেন অন্তত ৩০ বাংলাদেশি।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বেলা ১১টায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে এসআরবি-১০-এর অধিনায়ক ও অতিরিক্ত ডিআইজি মোহা. আসাদুজ্জামান জানান, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) এ ঘটনায় অভিযুক্ত দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এসআরবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উচ্চবেতনের চাকরির আশ্বাস দিয়ে বাংলাদেশিদের রাশিয়ায় পাঠানো হতো। সেখানে নেওয়ার পর তাঁদের ২০ দিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পেয়েছে সংস্থাটি। এরপর তাঁদের ইউক্রেন যুদ্ধে জড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশে নেওয়ার পর যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর এই অভিযোগ মানবপাচার ও প্রতারণার গুরুতর চিত্র তুলে ধরেছে।
সংবাদ সম্মেলনে এসআরবি জানায়, এ ধরনের প্রতারণার শিকার ৩০ বাংলাদেশির তথ্য তারা পেয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলা ও খোঁজখবর নেওয়ার পর সংস্থাটি জানতে পেরেছে, তাঁদের মধ্যে ২০ জনের যুদ্ধক্ষেত্রে মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া দুজন বাংলাদেশি দেশে ফিরতে পেরেছেন বলে জানানো হয়েছে।
তবে বাকি ব্যক্তিদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। নিহতদের পরিচয়, মৃত্যুর পরিস্থিতি এবং তাঁদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া গেলে ঘটনার পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।
এসআরবি জানিয়েছে, এ ঘটনায় মিজানকে মূল হোতা বা মাস্টারমাইন্ড হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গ্রেপ্তার অপর ব্যক্তি আবু তাহের লিন্টু। তাঁদের বিরুদ্ধে মানবপাচারের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। তবে চক্রটির সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং বাংলাদেশ থেকে রাশিয়ায় লোক পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়ায় কারা সহায়তা করেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার ভয়াবহতা তুলে ধরতে গিয়ে এসআরবির এক সদস্য আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। ভবিষ্যতে যেন আর কেউ এমন প্রতারণার ফাঁদে না পড়েন, সে জন্য সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।
চাকরির আশায় বিদেশে যেতে আগ্রহীদের ক্ষেত্রে এ ঘটনা সতর্কবার্তা হিসেবে সামনে এসেছে। উচ্চবেতনের প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশে নেওয়ার প্রস্তাব পেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পরিচয়, চাকরির বৈধতা এবং ভ্রমণসংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে চাকরির নামে বিদেশে পাঠানোর পর প্রশিক্ষণ বা কাজের প্রকৃতি সম্পর্কে অস্পষ্টতা থাকলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
এসআরবির সংবাদ সম্মেলনে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, প্রতারণার শিকার বাংলাদেশিদের মধ্যে ২০ জনের মৃত্যুর অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত এবং ভুক্তভোগীদের বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ।