collected
বিশেষ প্রতিনিধি ॥ ট্রেনে আগুন দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জামায়াতে ইসলামীর কর্মী বা সমর্থক—গণমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশিত হয়েছে দাবি করে দলটির আমিরের কাছে জবাব চেয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মিছিল-পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তাঁর বক্তব্যের বিষয়ে একাধিক সংবাদমাধ্যমও প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
সাম্প্রতিক সহিংসতা নিয়ে প্রশ্ন
সমাবেশে রিজভী দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও বিস্ফোরণের ঘটনা তুলে ধরে এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কারা জড়িত, তা প্রকাশের দাবি জানান।
তিনি রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে ভাঙচুরের প্রতিবাদে জামায়াতের আমিরকে লংমার্চ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে রাজধানীর মধ্যবাড্ডা, কাফরুল ও মিরপুরে বাসে আগুন এবং হাইকোর্টের সামনে বোমাবাজির ঘটনাগুলো নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
রিজভী বলেন, এসব ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তার জবাব দিতে হবে।
ট্রেনে আগুনের ঘটনায় জামায়াতের প্রসঙ্গ
রিজভী দাবি করেন, সম্প্রতি ট্রেনে আগুন দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জামায়াতের লোক—এমন খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এ প্রসঙ্গ তুলে তিনি জামায়াতের আমিরের কাছে এসব ঘটনার বিষয়ে ব্যাখ্যা দাবি করেন।
তবে পুলিশের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১৯ সেপ্টেম্বর কমলাপুর রেলস্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তির একজন রেলওয়ের এমওডি শাখার ইলেকট্রিশিয়ান মো. সাখাওয়াত হোসেন রায়হান, যাকে পুলিশ শাহজাহানপুর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করেছে। অপরজন মো. সাইমুনকে পুলিশ ওই এলাকার কথিত যুবলীগ কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়েছে।
অন্যদিকে ২০ সেপ্টেম্বর কমলাপুরে দাঁড়িয়ে থাকা হাওর এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুনের ঘটনায় রেল প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তদন্তের মাধ্যমে অন্যদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
‘নতুন দোসর তৈরি হয়েছে’ দাবি
রিজভী বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি হচ্ছে যে শুধু পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরাই নয়, নতুন কিছু পক্ষও দেশের পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে কাজ করছে।
তিনি সাম্প্রতিক সহিংসতা ও নাশকতার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের রাজনৈতিক পরিচয় ও ভূমিকা স্পষ্ট করার আহ্বান জানান।
তবে এসব ঘটনায় কারা প্রকৃতভাবে জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের সঙ্গে রাজনৈতিক নেতাদের অভিযোগকে আলাদা করে দেখা প্রয়োজন।