ভারতের নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নাহিদ ইসলামের সংহতি

Sharmin Sultana Sharmin Sultana ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৭ AM BST ২৩১ বার পঠিত
ভারতের নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নাহিদ ইসলামের সংহতি

collected

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবিতে নয়াদিল্লিতে চলমান আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। ভারতের বিরোধী দল ও তরুণদের সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) চলমান আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে তিনি বলেছেন, গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা এবং নির্বাচনি ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত তরুণদের পাশে বাংলাদেশও রয়েছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় নাহিদ ইসলাম বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচনি ব্যবস্থার সংস্কার এবং গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় আন্দোলনরত ভারতের তরুণদের সঙ্গে তাঁরা দৃঢ় সংহতি প্রকাশ করছেন।

তিনি বলেন, ইন্টারনেট বন্ধ করে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারী ও নেতাদের আটক করা মৌলিক অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত। সুষ্ঠু নির্বাচনি ব্যবস্থা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের দাবি জানানো ছাত্র-নাগরিকদের ওপর এ ধরনের দমন-পীড়ন চলতে পারে না।

আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, এই লড়াই তাঁদের একার নয়। ঢাকা থেকেও তাঁরা আন্দোলনকারীদের পাশে রয়েছেন। ক্ষমতার জবাবদিহি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং মানবিক মর্যাদার অভিন্ন দাবিতে সবাই ঐক্যবদ্ধ।

নিজেদের আন্দোলনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন পরবর্তী সময়ে ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় ফ্যাসিস্ট বাহিনী ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, সে সময় প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানের সময় ভারতের শিক্ষার্থী, লেখক ও স্বাধীন কণ্ঠস্বরগুলো যে সংহতি জানিয়েছিল, তা তাঁরা গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।

ভারতের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসের প্রসঙ্গ তুলে তিনি শাহীনবাগের নারী সমাজ, জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (জেএনইউ) এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের কথা উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এসব সংগ্রাম সব সময় তাঁদের অনুপ্রাণিত করেছে। বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলনের মতো ভারতেও নারীরা আন্দোলনের সম্মুখসারিতে রয়েছেন।

ধর্মীয় আধিপত্যবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরোধিতা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসন, ফ্যাসিবাদ কিংবা যেকোনো ধরনের ধর্মীয় আধিপত্যবাদ দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে না। কর্তৃত্ববাদ, সাম্প্রদায়িক ঘৃণা ও রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতাকে এ অঞ্চলের জনগণ প্রত্যাখ্যান করে। তাঁর মতে, দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ গড়ে উঠতে হবে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে, যেখানে ধর্ম, জাত, লিঙ্গ কিংবা শ্রেণির কারণে বৈষম্য থাকবে না।

তিনি বলেন, যে সমাজ সংখ্যালঘুদের অধিকার হরণ করে, ভিন্নমতকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে এবং ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব নির্ধারণ করে, সেই সমাজ কখনো গণতান্ত্রিক হতে পারে না।

ভারতে আটক রাজনৈতিক কর্মীদের প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, শারজিল ইমাম ও উমর খালিদকে বছরের পর বছর বিনা বিচারে আটকে রাখা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, তরুণ নেতৃত্বসহ আরও কয়েক হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে। তিনি এসব আন্দোলনকারী ও রাজনৈতিক বন্দিকে নিজেদের সহযোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করে অবিলম্বে আটক নেতাদের মুক্তির দাবি জানান।

বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, সীমান্ত হত্যা বন্ধ, অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য বণ্টন, পরিবেশ রক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করা তাঁদের অঙ্গীকার। তিনি এমন দক্ষিণ এশিয়ার প্রত্যাশা করেন, যেখানে রাষ্ট্রগুলো পরস্পরকে সমান মর্যাদা দেবে, সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি করবে এবং সব দেশের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষিত থাকবে।

ভারতের গণতান্ত্রিক জনগণের উদ্দেশে দেওয়া বার্তায় নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের জুলাই প্রজন্ম তাঁদের পাশে রয়েছে। তিনি আন্দোলনকারীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার, একে অপরকে রক্ষা করার এবং সাম্প্রদায়িক ঘৃণা প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানান।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: