ছবি: সংগৃহীত
ভারতের জনপ্রিয় নাচের রিয়েলিটি শো ‘ইন্ডিয়াস বেস্ট ড্যান্সার’-এর পঞ্চম মৌসুমের বিজয়ী হয়েছেন রায়পুরের ১৯ বছর বয়সী নৃত্যশিল্পী রিতেশ পাল। গতকাল রাতে অনুষ্ঠিত গ্র্যান্ড ফিনালেতে অন্য চার প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে চ্যাম্পিয়নের ট্রফি জিতে নিয়েছেন তিনি।
রিতেশের সঙ্গে পুরো মৌসুমে জুটি বেঁধে কাজ করেছেন কোরিওগ্রাফার প্রতীক উতেকর। বিজয়ী হিসেবে রিতেশ পেয়েছেন ১৫ লাখ রুপি পুরস্কার।
গ্র্যান্ড ফিনালেতে রিতেশের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন অংশিকা ধারা, গীতাঞ্জলি মারওয়াহা, প্রথামেশ মানে ও দীপালি বোরকার। শেষ পর্যন্ত তাঁদের পেছনে ফেলে চ্যাম্পিয়ন হন রিতেশ। পুরো মৌসুমে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের কারণে শুরু থেকেই অন্যতম শক্তিশালী প্রতিযোগী হিসেবে আলোচনায় ছিলেন তিনি। তিনবার ‘ব্যাটল ট্রফি’ জয়ও তাঁর ধারাবাহিকতার প্রমাণ।
সমসাময়িক নাচ থেকে নানা ঘরানায়
এবারের ‘ইন্ডিয়াস বেস্ট ড্যান্সার’-এর মূল ভাবনা ছিল ‘ইন্ডিয়া ওয়ালা ড্যান্স’। এই থিমের কারণে প্রতিযোগীদের নিজেদের পরিচিত নাচের ধরন থেকে বেরিয়ে ভারতের বিভিন্ন নৃত্যধারা ও পরিবেশনাশৈলী নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হয়েছে।
রিতেশ ও প্রতীক দুজনই মূলত সমসাময়িক নাচের পটভূমি থেকে এসেছেন। তাই তাঁদের জন্যও এই যাত্রা ছিল চ্যালেঞ্জের। পরিচিত ঘরানার বাইরে গিয়ে নতুন ধরনের নাচ শেখা এবং সেগুলো মঞ্চে পরিবেশনের মধ্য দিয়ে নিজের দক্ষতার পরিসর আরও বাড়িয়েছেন রিতেশ।
বিজয়ের পর রিতেশ বলেন, নাচ তাঁর সব সময়ের ভালোবাসা। ‘ইন্ডিয়াস বেস্ট ড্যান্সার’ জয়কে তিনি স্বপ্নপূরণ হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, ‘ইন্ডিয়া ওয়ালা ড্যান্স’ তাঁকে স্বচ্ছন্দের জায়গা থেকে বের করে একজন শিল্পী হিসেবে আরও পরিণত হতে সাহায্য করেছে।
শোয়ের বিচারকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন রিতেশ। কারিশমা কাপুর, জাভেদ জাফরি, গীতা কাপুর ও টেরেন্স লুইসের কাছ থেকে পাওয়া পরামর্শ তাঁর এই যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে জানান তিনি। বিশেষ করে গীতা কাপুরের প্রতি আলাদা আবেগের কথাও বলেছেন রিতেশ।
গুরুর সঙ্গে চ্যাম্পিয়ন
রিতেশের এই জয়ের সঙ্গে বিশেষভাবে জড়িয়ে আছে কোরিওগ্রাফার প্রতীক উতেকরের নাম। পুরো মৌসুমে তাঁর সঙ্গে জুটি বেঁধে পারফর্ম করেছেন রিতেশ। বিজয়ের পর প্রতীক বলেন, তাঁর ‘শিষ্য’ রিতেশের সঙ্গে ট্রফি জেতা তাঁর জন্য গর্ব ও আবেগের মুহূর্ত।
প্রতীকের মতে, শুরু থেকেই রিতেশ তাঁর পরিকল্পনার ওপর আস্থা রেখেছেন এবং প্রতিটি নির্দেশনা মন দিয়ে গ্রহণ করেছেন। দুজনের নাচের পটভূমি একই হওয়ায় ‘ইন্ডিয়া ওয়ালা ড্যান্স’ তাঁদের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছিল। তবে সেই চ্যালেঞ্জ একসঙ্গেই মোকাবিলা করেছেন তাঁরা।
রিতেশের বেড়ে ওঠার পেছনে প্রতীকের ভূমিকার কথাও উঠে এসেছে। কোরিওগ্রাফারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে রিতেশ বলেন, তাঁর ওপর বিশ্বাস রাখার পাশাপাশি পুরো যাত্রায় তাঁকে নতুনভাবে গড়ে তুলেছেন প্রতীক।
আগেও রিয়েলিটি শো জিতেছেন রিতেশ
রিয়েলিটি শোয়ের মঞ্চে এটাই রিতেশের প্রথম সাফল্য নয়। এর আগে ‘ড্যান্স প্লাস প্রো’-তেও বিজয়ী দলের সদস্য ছিলেন তিনি। শক্তি মোহনের দলের হয়ে সেই প্রতিযোগিতায় জিতেছিলেন রিতেশ।
ফলে পরপর দুটি বড় নাচের রিয়েলিটি শোয়ে সাফল্য পেয়েছেন এই তরুণ নৃত্যশিল্পী। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই জাতীয় পর্যায়ের দুটি জনপ্রিয় নাচের প্রতিযোগিতায় সাফল্য তাঁর ক্যারিয়ারের শুরুতেই আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছে।
তারকাখচিত গ্র্যান্ড ফিনালে
পঞ্চম মৌসুমের গ্র্যান্ড ফিনালেতে বিচারকের আসনে ছিলেন কারিশমা কাপুর, জাভেদ জাফরি, গীতা কাপুর ও টেরেন্স লুইস। শেষ পর্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে হাজির হন জ্যাকি শ্রফ, তামান্না ভাটিয়া ও সিদ্ধার্থ মালহোত্রা।
তারকাদের উপস্থিতিতে জমে ওঠে গ্র্যান্ড ফিনালের মঞ্চ। প্রতিযোগীদের শেষ পারফরম্যান্স, বিচারকদের মন্তব্য এবং বিজয়ীর নাম ঘোষণার মধ্য দিয়ে শেষ হয় ‘ইন্ডিয়াস বেস্ট ড্যান্সার’-এর পঞ্চম মৌসুম।