Photo Collected
পারকিনসন্স রোগের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই এবং এ রোগ নিয়ে সচেতনতা তৈরিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ ‘বব হোপ হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন কানাডীয়-মার্কিন অভিনেতা মাইকেল জে ফক্স। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত এমি অ্যাওয়ার্ডসের মঞ্চে ৬৫ বছর বয়সী এই অভিনেতার হাতে তুলে দেওয়া হয় সম্মাননাটি।
টেলিভিশন একাডেমির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পারকিনসন্স রোগের গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান এবং জনসচেতনতা তৈরিতে দীর্ঘদিনের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ফক্সকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
পুরস্কার গ্রহণের আগে একটি ভিডিওর মাধ্যমে তুলে ধরা হয় মাইকেল জে ফক্সের দীর্ঘ অভিনয়জীবন এবং পারকিনসন্স রোগের বিরুদ্ধে তার লড়াইয়ের নানা অধ্যায়। এরপর হুইলচেয়ারে করে মঞ্চে ওঠেন তিনি। এ সময় দর্শকেরা দাঁড়িয়ে করতালির মাধ্যমে তাকে সম্মান জানান।
পুরস্কার গ্রহণের পর আবেগঘন বক্তব্যে ফক্স তার শৈশবের স্মৃতি এবং প্রয়াত কমেডিয়ান বব হোপের জীবন থেকে অনুপ্রেরণা পাওয়ার কথা উল্লেখ করেন। দর্শকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন, আমি এর জন্য কৃতজ্ঞ। আমরা যে অগ্রগতি অর্জন করেছি, তাতে আমি গর্বিত।’
রোগ লুকানো থেকে সচেতনতার প্রতীক
মাইকেল জে ফক্সের পারকিনসন্সের সঙ্গে লড়াই শুরু হয় খুব অল্প বয়সেই। ১৯৯১ সালে ‘ডক হলিউড’ সিনেমায় কাজ করার সময় মাত্র ২৯ বছর বয়সে তার শরীরে প্রথম রোগটির লক্ষণ দেখা দেয়। তবে তখন তিনি বিষয়টি গোপন রাখেন। প্রায় সাত বছর পর, ১৯৯৮ সালে, জনসমক্ষে নিজের পারকিনসন্স রোগে আক্রান্ত হওয়ার কথা জানান তিনি।
শুরুর দিকে রোগটি আড়ালে রাখলেও পরে ফক্স উপলব্ধি করেন, নিজের অসুস্থতাকে মেনে নেওয়া মানে পরাজয় নয়। বরং এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে অন্যদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা সম্ভব।
পারকিনসন্সের কারণে সময়ের সঙ্গে কথা বলা এবং সংলাপ মনে রাখার মতো কাজগুলো তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে ২০২০ সালে অভিনয় থেকে অবসরের ঘোষণা দেন তিনি। তবে অভিনয় থেকে দূরে থাকলেও রোগটির গবেষণা ও সচেতনতার কাজে সক্রিয় ছিলেন তিনি।
২০০০ সালে ফক্স প্রতিষ্ঠা করেন ‘মাইকেল জে ফক্স ফাউন্ডেশন’। পারকিনসন্স রোগের চিকিৎসা ও গবেষণার জন্য তহবিল সংগ্রহ এবং গবেষণাকে এগিয়ে নিতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। ফক্সের নেতৃত্বে ফাউন্ডেশনটি পারকিনসন্স গবেষণার অন্যতম বড় বেসরকারি অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
অভিনয় থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরও ২০২৫ সালে অ্যাপল টিভি প্লাসের জনপ্রিয় সিরিজ ‘শ্রিংকিং’-এ অভিনয় করে আবারও পর্দায় ফেরেন তিনি। চলতি বছরও তিনি এমিতে মনোনয়ন পেয়েছেন। পাঁচবারের এমি বিজয়ী এই অভিনেতার অভিনয়জীবনের পাশাপাশি মানবিক ও জনসচেতনতামূলক কাজও তাকে বিশেষ মর্যাদা এনে দিয়েছে।
‘বব হোপ হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাওয়ার্ড’ মূলত টেলিভিশন অঙ্গনের এমন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে দেওয়া হয়, যার জনহিতকর কাজ প্রয়াত কমেডিয়ান বব হোপের সমাজসেবামূলক আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ২০০২ সালে চালু হওয়া এই পুরস্কার এর আগে অপরাহ উইনফ্রে, জর্জ ক্লুনি ও শন পেনের মতো তারকারা পেয়েছেন।
মাইকেল জে ফক্সের ক্ষেত্রে এবারের সম্মাননা শুধু তার অভিনয়জীবনের স্বীকৃতি নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরে নিজের রোগকে সামনে রেখে পারকিনসন্স গবেষণা ও জনসচেতনতা তৈরিতে তার ভূমিকারও স্বীকৃতি।