৫০০ কোটি টাকার অডিও কাণ্ডে মহারাষ্ট্রে বিজেপি-শিন্ডে শিবসেনা দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে

Pinky Saha Pinky Saha ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৬ AM BST ১ বার পঠিত
৫০০ কোটি টাকার অডিও কাণ্ডে মহারাষ্ট্রে বিজেপি-শিন্ডে শিবসেনা দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে

Photo Collected

ভারতের মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে আবারও বিজেপি ও একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বাধীন শিবসেনার মধ্যে টানাপোড়েন প্রকাশ্যে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে জোটবদ্ধ হয়ে সরকার পরিচালনা করা দুই দলের মধ্যে এবার বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে ৫০০ কোটি টাকার লেনদেনের অভিযোগসংক্রান্ত একটি বিতর্কিত অডিও ক্লিপ।

মারাঠা আন্দোলনের নেতা মনোজ জারাঙ্গে-পাটিল একটি অডিও প্রকাশ করে দাবি করেছেন, উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের ছেলে শ্রীকান্ত শিন্ডের মাধ্যমে তাঁকে ৫০০ কোটি টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তবে শিন্ডে ও তাঁর দল এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে। অন্যদিকে, বিজেপির পক্ষ থেকেও অডিও ক্লিপটির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

বিতর্কের তদন্তে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ একটি বিশেষ ফরেনসিক দল গঠন করেছেন। ফড়নবীশ প্রশ্ন তুলেছেন, আড়াই বছর আগের বলে দাবি করা একটি কথিত কথোপকথনের অডিও এত দিন পর হঠাৎ করে কেন প্রকাশ্যে আনা হলো। অডিওটির সত্যতা যাচাই করতেই ফরেনসিক তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও শিবসেনার সম্পর্কের তিক্ততা আরও বেড়েছে। শিবসেনা নেতা রামদাস কদম অভিযোগ করেছেন, বিজেপির ভেতরের একটি পক্ষ একনাথ শিন্ডেকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার ষড়যন্ত্র করছে। শিন্ডের জনপ্রিয়তা বেড়ে যাওয়ায় বিজেপির একটি অংশ তাঁকে ভয় পাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

তবে শিবসেনার এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে বিজেপি। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোনো প্রমাণ ছাড়াই দলের বিরুদ্ধে মনগড়া অভিযোগ মেনে নেওয়া হবে না। ফলে অডিও ক্লিপের সত্যতা নিয়ে তদন্তের পাশাপাশি দুই শরিক দলের মধ্যে রাজনৈতিক চাপানাপোড়েনও বাড়ছে।

বিজেপি ও শিন্ডের শিবসেনার মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে টানাপোড়েন অবশ্য নতুন নয়। ২০২২ সালে উদ্ধব ঠাকরের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে বিজেপির সঙ্গে জোট করেন একনাথ শিন্ডে এবং মুখ্যমন্ত্রী হন। পরে ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিজেপি একাই ১৩২টি আসন পায়, আর শিন্ডের শিবসেনা পায় ৫৭টি আসন। নির্বাচনী ফলাফলের পর দেবেন্দ্র ফড়নবীশ মুখ্যমন্ত্রী হন এবং শিন্ডে উপমুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ পাওয়ার পর থেকেই দুই দলের মধ্যে অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের আলোচনা রয়েছে। সম্প্রতি শিবসেনার নেতারা প্রকাশ্যেই বলতে শুরু করেছেন, ২০২৯ সালের পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচনে আসনসংখ্যা বাড়িয়ে একনাথ শিন্ডেকে আবার মুখ্যমন্ত্রীর পদে বসানোর লক্ষ্য রয়েছে তাঁদের।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ৫০০ কোটি টাকার অভিযোগসংক্রান্ত অডিও বিতর্ক এবং শিবসেনা নেতাদের সাম্প্রতিক বক্তব্য শুধু বর্তমান বিরোধের ইঙ্গিত নয়; এর সঙ্গে ২০২৯ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে ভবিষ্যতের ক্ষমতার সমীকরণ ও দরকষাকষির বিষয়টিও জড়িত। ফলে তদন্তের ফলাফল এবং দুই দলের পরবর্তী রাজনৈতিক অবস্থান মহারাষ্ট্রের জোট রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: