নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হবে মঙ্গলবারের নির্বাচনে

Pinky Saha Pinky Saha ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৯ AM BST ১০ বার পঠিত
নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হবে মঙ্গলবারের নির্বাচনে

Photo Collected

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার মুখোমুখি হচ্ছেন। আগামী মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দেশটির ২৬তম পার্লামেন্ট বা নেসেট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণ করতে পারে নেতানিয়াহু আবারও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় ফিরবেন, নাকি দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তির পথে যাবেন।

নির্বাচনকে ঘিরে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তবে জনমত জরিপগুলো বলছে, সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন কোনো পক্ষই এককভাবে পাবে না। ফলে নির্বাচনের পর ছোট দল ও স্বতন্ত্র রাজনৈতিক শক্তিগুলো সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এমনকি ঝুলন্ত পার্লামেন্টের সম্ভাবনাও রয়েছে।

ইসরায়েলের নেসেটে মোট ১২০টি আসন। কোনো দল এককভাবে সরকার গঠন করতে না পারায় সাধারণত বিভিন্ন দলের সমন্বয়ে জোট সরকার গঠিত হয়। নির্বাচনের পর ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জোট আলোচনা শুরু হবে। জোট গঠনে ব্যর্থ হলে আবারও নির্বাচনের প্রয়োজন হতে পারে।

নেতানিয়াহুর জন্য এবারের নির্বাচন শুধু ক্ষমতায় ফেরার লড়াই নয়, তাঁর চলমান ফৌজদারি মামলার কারণেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বাসভঙ্গ, জালিয়াতি ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে তিনটি মামলা চলছে। ক্ষমতা হারালে এসব মামলার বিচারপ্রক্রিয়া আরও জোরালোভাবে এগোতে পারে এবং দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর কারাদণ্ডের সম্ভাবনাও রয়েছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজায় ইসরায়েলের দীর্ঘ সামরিক অভিযানও এবারের নির্বাচনের অন্যতম প্রধান ইস্যু। নিরাপত্তা ব্যর্থতা, জিম্মিদের ফিরিয়ে আনা, গাজা যুদ্ধ, সামরিক ব্যয় এবং সরকারের নীতির পাশাপাশি অতি গোঁড়া ইহুদিদের সামরিক বাহিনীতে যোগদানের প্রশ্নও ইসরায়েলি ভোটারদের মধ্যে বিতর্ক তৈরি করেছে।

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে রয়েছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর একটি বড় জোট। সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন নতুন দল ইয়াশারকে বিরোধী শিবিরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। জনমত জরিপে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির সঙ্গে তাদের হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

চূড়ান্ত জরিপগুলোতেও স্পষ্ট কোনো বিজয়ীর আভাস নেই। ফলে নির্বাচনের পর সরকার গঠনে প্রধান দুই রাজনৈতিক শিবিরের বাইরে থাকা দলগুলোর অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এই পরিস্থিতিতে ৭৭ বছর বয়সী নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে আগামী নির্বাচনের ফলাফল ও পরবর্তী জোট সমীকরণের ওপর।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: