Photo Collected
ইউক্রেনে যুদ্ধের জন্য রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়াতে মার্কিন কংগ্রেসে পাস হওয়া নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়া আটকে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার রাতে জারি করা এক নির্বাহী আদেশে তিনি বলেছেন, কিছু নিষেধাজ্ঞা স্থগিত রাখা যুক্তরাষ্ট্রের ‘জাতীয় স্বার্থের’ অনুকূলে।
কংগ্রেসে পাস হওয়া আইনটি ট্রাম্প নিজেই সেপ্টেম্বরে স্বাক্ষর করে আইনে পরিণত করেছিলেন। আইনটি ১৮ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। এর আওতায় রাশিয়ার তেল ও গ্যাস ক্রয়কারী দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সুযোগ রাখা হয়েছিল। বিশেষ করে চীন ও ভারতের মতো বড় ক্রেতা দেশগুলোকে লক্ষ্য করার সুযোগ ছিল এই আইনে।
এ ছাড়া রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, রুশ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ব্যবহৃত রুশ তেলবাহী ট্যাঙ্কারের গোপন বহরের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান ছিল।
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের কয়েক দিন আগেই তিনি জানিয়েছিলেন, নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম কমানোর লক্ষ্যে রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—দুই দলেরই কয়েকজন আইনপ্রণেতা ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন।
বৃহস্পতিবার দুই দলের ২০ জন আইনপ্রণেতা ট্রাম্পের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে নতুন নিষেধাজ্ঞা আইনটি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তাঁদের মতে, নিষেধাজ্ঞাগুলো রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে শান্তি আলোচনায় গুরুত্বের সঙ্গে অংশ নিতে চাপ দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আইনটি প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামে নামকরণ করা হয়েছে। ইউক্রেনের অন্যতম কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত গ্রাহাম ১১ জুলাই মারা যান।
এদিকে রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর মধ্যেও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, এমন পদক্ষেপ রাশিয়ার যুদ্ধ প্রচেষ্টাকে পরোক্ষভাবে সহায়তা করতে পারে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও এই চুক্তিকে পুতিনের জন্য ‘উপহার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।