বিডিআর হত্যাকাণ্ডের চার প্রত্যক্ষদর্শীকে চোখ বেঁধে গুলি, পেটে বস্তা বেঁধে নদীতে ফেলার

Sharmin Sultana Sharmin Sultana ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩:০২ PM BST ২৮ বার পঠিত
বিডিআর হত্যাকাণ্ডের চার প্রত্যক্ষদর্শীকে চোখ বেঁধে গুলি, পেটে বস্তা বেঁধে নদীতে ফেলার

collected

বিডিআর হত্যাকাণ্ডের চার প্রত্যক্ষদর্শীকে বলেশ্বর নদীতে নিয়ে চোখ বেঁধে গুলি করে হত্যার পর তাঁদের পেট কেটে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর সাব্বির।

বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ গুমের মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ার সময় তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।

মেজর সাব্বিরের সাক্ষ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালের মে মাসে র‌্যাবের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের তৎকালীন প্রধান জিয়াউল আহসানের উপস্থিতি ও নির্দেশনায় র‌্যাব-৮-এর ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের সদস্যরা ওই হত্যাকাণ্ড ঘটান বলে তিনি দাবি করেন।

সাক্ষ্যে তিনি জানান, পাথরঘাটার চরদুয়ানি এলাকার বলেশ্বর নদীতে একটি ফিশিং ট্রলারে করে চারজনকে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের মুখ ও পুরো শরীর ঢেকে রাখা হয়েছিল। পরে চোখ বেঁধে তাঁদের গুলি করে হত্যা করা হয়। এরপর মরদেহের পেট কেটে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদীতে ফেলে দেওয়া হয় বলে সাক্ষ্যে উল্লেখ করেন তিনি।

সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা আরও জানান, একই ধরনের কায়দায় ২০১০ সালে আরও একজনকে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। ২০১১ সালে জিয়াউল আহসানের কথিত ‘গলফ অপারেশনে’ ব্যবহৃত ট্রলারের এক মাঝি আলকাস মাঝিকেও গুমের পর হত্যা করা হয় বলে তিনি আদালতে সাক্ষ্য দেন।

গুমের মামলায় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়াসহ সেনাবাহিনী ও র‌্যাবের কয়েকজন কর্মকর্তা আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন এসব ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বলে আদালতে বক্তব্য দিয়েছেন।

মামলার পরবর্তী ধাপে তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য নেওয়ার কথা রয়েছে। এরপর যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের মাধ্যমে বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।

জানা গেছে, গত ১৬ বছরের মধ্যে এটিই প্রথম গুমের মামলা, যার বিচারিক কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: