collected
চট্টগ্রাম নগরীর বন্দর থানার গোসাইলডাঙ্গায় মাকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যার মামলায় সুমিত চৌধুরী বিভুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। আসামি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেছেন আদালত।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর পঞ্চম দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. তাজউল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী এস এম কাওসার সাগর জানান, দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় সুমিতকে দোষী সাব্যস্ত করে এ সাজা দেওয়া হয়েছে। মামলায় ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত রায় ঘোষণা করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর কুমকুম চৌধুরীর বড় ছেলে সোমনাথ চৌধুরী বাইরে থেকে বাসায় ফিরে দীর্ঘ সময় দরজায় ধাক্কা দেন। পরে ছোট ছেলে সুমিত দরজা খুলে দেন। ঘরে প্রবেশ করে সোমনাথ তার মা কুমকুম চৌধুরীকে বিছানায় গলাকাটা অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় সুমিতের ঘাড়েও রক্তাক্ত জখম ছিল।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর সুমিত তার ভাইকে জানান যে তিনি নিজেই মাকে হত্যা করেছেন এবং পরে দা দিয়ে নিজের ঘাড়েও আঘাত করেছেন। পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুমিত জানিয়েছিলেন, এইচএসসি পরীক্ষার ফল খারাপ হওয়ায় মায়ের বকাঝকার কারণে মানসিক কষ্ট থেকে তিনি এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।
এ ঘটনায় কুমকুম চৌধুরীর স্বামী সুখময় চৌধুরী বাদী হয়ে বন্দর থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ২৩ জুলাই আদালত সুমিতের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় অভিযোগ গঠন করেন। এরপর দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা শেষে আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করেন।
রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি পলাতক থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে গ্রেপ্তারের পর আদালতের দেওয়া সাজা কার্যকর হবে।