collected
এলপিজি ব্যবসায়ী, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে গণশুনানি করছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদিত হলে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দামেও প্রভাব পড়তে পারে। বর্তমানে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রির বিভিন্ন পর্যায়ে যে কমিশন নির্ধারিত রয়েছে, তা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর আবেদন করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইস্কাটনে বিয়াম মিলনায়তনে এ গণশুনানি শুরু হয়। শুনানিতে এলপিজি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমান কমিশন দুই থেকে আড়াই গুণ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। অন্যদিকে পরিবেশকরা কমিশন তিন গুণ করার দাবি জানিয়েছেন। প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করে শুনানি শেষে কমিশন ও মূল্য নির্ধারণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বিইআরসি।
১২ কেজি সিলিন্ডারে কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাব
বিইআরসিতে জমা দেওয়া আবেদনে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের কমিশন বাড়ানোর বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পৃথক প্রস্তাব উঠে এসেছে। বর্তমানে এ সিলিন্ডারের কমিশন ১৯১ টাকা। ওমেরা এ কমিশন বাড়িয়ে ৪৭৮ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে। পেট্রোম্যাক্স ৩৪৯ টাকা, ডেল্টা ৩৬০ টাকা এবং মেঘনা গ্রুপ ৩০০ টাকা কমিশন নির্ধারণের আবেদন করেছে।
প্রস্তাবগুলো কার্যকর হলে প্রতিষ্ঠানভেদে কমিশনের পরিমাণে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। তবে এসব প্রস্তাব এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। গণশুনানিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও প্রস্তাব বিবেচনার পরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের দাবিও বাড়তি
এলপিজি সরবরাহ ও বিক্রির পরবর্তী পর্যায়েও কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাব এসেছে। পরিবেশকরা বর্তমানে ৫০ টাকা কমিশনের পরিবর্তে ১৫০ টাকা নির্ধারণের আবেদন করেছেন। একইভাবে খুচরা বিক্রেতারা ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ টাকা কমিশন করার প্রস্তাব দিয়েছেন।
ব্যবসায়ীদের এসব দাবি বিবেচনায় নেওয়ার ক্ষেত্রে কমিশন বৃদ্ধির যৌক্তিকতা এবং এর প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ, এলপিজি ব্যবসার বিভিন্ন পর্যায়ে কমিশন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে তা ভোক্তা পর্যায়ের বিক্রয়মূল্য নির্ধারণেও প্রভাব ফেলতে পারে। তবে প্রস্তাবিত কমিশন বৃদ্ধির কারণে সিলিন্ডারের দাম ঠিক কত টাকা বাড়বে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
যৌক্তিকতা বিবেচনায় দাম সমন্বয়ের আশ্বাস
গণশুনানিতে বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেছেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে যৌক্তিকতা বজায় রেখে এলপিজির দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অর্থাৎ ব্যবসায়ীদের কমিশন বৃদ্ধির দাবি পর্যালোচনার পাশাপাশি সামগ্রিক বিষয় বিবেচনায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছে কমিশন।
শুনানি শেষে কমিশন ও এলপিজির মূল্য নির্ধারণের বিষয়ে বিইআরসির সিদ্ধান্ত জানা যাবে। এর আগে ব্যবসায়ীদের প্রস্তাবকে চূড়ান্ত মূল্যবৃদ্ধি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করবে এলপিজি বিক্রির কমিশন ও ভোক্তা পর্যায়ের দামে কী ধরনের পরিবর্তন আসবে।