collected
ডেঙ্গু মোকাবেলায় আগাম প্রস্তুতি, রোগের পূর্বাভাস বিশ্লেষণ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও স্যালাইনের সরবরাহ নিশ্চিত করার ফলে মৃত্যুহার কমেছে বলে দাবি করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিত। তিনি বলেছেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলায় আগে থেকেই পরিকল্পনা গ্রহণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করার সুফল পাওয়া যাচ্ছে। একই সঙ্গে ডেঙ্গুতে নারীদের মৃত্যুর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হওয়ার পেছনে চিকিৎসাগত কারণের পাশাপাশি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি ও চিকিৎসা নিতে দেরি করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে নলেজ হাব ইনস্টিটিউট আয়োজিত ‘জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সহনশীলতা’ শীর্ষক পলিসি ডায়ালগে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।
নারীদের চিকিৎসা নিতে দেরি উদ্বেগের কারণ
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর তথ্য বিশ্লেষণের প্রসঙ্গ তুলে ধরে এম এ মুহিত বলেন, পুরুষের তুলনায় নারীদের মৃত্যুর সংখ্যা বেশি দেখা গেছে। এর পেছনে শারীরিক ও চিকিৎসাগত বিষয় ছাড়াও সামাজিক কারণ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে নারীদের অসুস্থতাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয় না। ফলে চিকিৎসা নিতে দেরি হয় এবং হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে পারে।
তিনি জানান, ডেঙ্গুতে মৃত্যুর ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, অনেক রোগী অসুস্থ হওয়ার তিন দিনের বেশি সময় পর হাসপাতালে এসেছেন। রোগী দেরিতে হাসপাতালে পৌঁছালে পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠতে পারে এবং চিকিৎসা জটিল হয়ে পড়ে। তাই অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, পুরুষ অসুস্থ হলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার প্রবণতা থাকলেও নারীদের ক্ষেত্রে কখনো কখনো একই গুরুত্ব দেওয়া হয় না। এ ধরনের বৈষম্য কমাতে পরিবার ও সমাজের সচেতন ভূমিকা প্রয়োজন।
আগাম সতর্কতা ও প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব
ডেঙ্গু মোকাবেলায় আগাম সতর্কতা ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, রোগের পূর্বাভাস ও সংশ্লিষ্ট তথ্য বিশ্লেষণ করে জুলাই-আগস্ট থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও স্যালাইনের সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও আগে শুরু করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, আগাম সতর্কতা শুধু রোগী ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ নয়; নীতিনির্ধারকদের জন্যও এটি কার্যকর ভূমিকা রাখে। পরিস্থিতি সম্পর্কে আগে থেকে ধারণা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ, সরবরাহব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা এবং অন্যান্য কার্যক্রম সময়মতো পরিচালনা করা সম্ভব হয়।
জলবায়ু পরিবর্তনজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবেলার আহ্বান
ডেঙ্গুর পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট তাপপ্রবাহ ও অতিরিক্ত আর্দ্রতার স্বাস্থ্যগত প্রভাব মোকাবেলায়ও কার্যকর আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর মতে, স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবেলায় তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ প্রয়োজন।
তিনি নারী, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও প্রতিবন্ধীদের মতো ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য পৃথক তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের আহ্বান জানান। এসব জনগোষ্ঠীর ওপর ডেঙ্গু ও তাপপ্রবাহের প্রভাব চিহ্নিত করে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।
এ ছাড়া গবেষক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ছয় থেকে আট মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ তৈরি এবং পরবর্তী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে তা নীতিনির্ধারকদের কাছে উপস্থাপনের উদ্যোগ নিতে বলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। তাঁর মতে, গবেষণালব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা গেলে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবেলায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।