collected
নবনিযুক্ত পুলিশ সার্জেন্ট ও সাব-ইন্সপেক্টরদের (এসআই) সততা, দক্ষতা, নিষ্ঠা ও পেশাদারির সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। জনগণের আস্থা অর্জনের পাশাপাশি ভয়ভীতি ও পক্ষপাতিত্বের ঊর্ধ্বে থেকে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের আইনি সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ও ৪৩তম ক্যাডেট এসআই-২০২৬ ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব নির্দেশনা দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, জনগণের পাশে থেকে সেবা প্রদানের মাধ্যমে পুলিশ সদস্যদের নিজেদের সত্যিকার অর্থে ‘জনগণের পুলিশ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কুচকাওয়াজের অভিবাদন গ্রহণ করেন। পরে প্রশিক্ষণের বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন তিনি।
কুচকাওয়াজে ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ব্যাচের ৮৪ জন এবং ৪৩তম ক্যাডেট এসআই ব্যাচের ১৬২ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির এবং পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল ও অতিরিক্ত আইজিপি মো. মাইনুল হাসান উপস্থিত ছিলেন। প্যারেড কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন এএসপি প্রবেশনার মো. মাহবুব হোসেন।
আট প্রশিক্ষণার্থী পেলেন শ্রেষ্ঠত্বের পুরস্কার
প্রশিক্ষণে বিভিন্ন বিষয়ে কৃতিত্বপূর্ণ ফল অর্জন করায় আটজন প্রশিক্ষণার্থীকে পুরস্কৃত করা হয়। শিক্ষানবিশ সার্জেন্টদের মধ্যে সেরা সার্জেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন মো. ওমর ফারুক। একাডেমিক বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন। মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে সেরা হয়েছেন সাইফুল ইসলাম এবং সেরা শুটার নির্বাচিত হয়েছেন মো. আসাদুজ্জামান।
অন্যদিকে, ক্যাডেট এসআইদের মধ্যে সেরা ক্যাডেট হয়েছেন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। একাডেমিক বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন মো. বোরহানুল ইসলাম। মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে সেরা হয়েছেন দেওয়ান গোলাম রসুল এবং সেরা শুটার নির্বাচিত হয়েছেন মো. কামাল গনি।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পদমর্যাদার সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রশিক্ষণ শেষে বিভিন্ন ইউনিটে পদায়ন
পুলিশ একাডেমিতে ছয় মাসের মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষ করে ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ব্যাচের সদস্যরা নিজ নিজ ইউনিটে যোগ দেবেন। অন্যদিকে, ৪৩তম ক্যাডেট এসআই ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থীরা শিক্ষানবিশ এসআই (নিরস্ত্র) হিসেবে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে পদায়িত হবেন।
প্রশিক্ষণ সমাপনী অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে কুচকাওয়াজের সার্বিক আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করায় পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল, প্রশিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধন্যবাদ জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। নতুন দায়িত্বে যোগ দিতে যাওয়া পুলিশ সদস্যদের জন্য সততা, নিরপেক্ষতা ও জনসেবার মানসিকতা বজায় রাখার নির্দেশনা অনুষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে উঠে আসে।