ফরিদা পারভীনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

Pinky Saha Pinky Saha ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪:১৩ PM BST ২৭ বার পঠিত
ফরিদা পারভীনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

ছবি: সংগৃহীত

কিংবদন্তি লোকসংগীত শিল্পী ফরিদা পারভীনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান এই গুণী শিল্পী। তাঁর মৃত্যুর এক বছর পূর্ণ হলেও বাংলা লোকসংগীত ও লালনগীতিতে তাঁর অবদান শ্রোতাদের কাছে এখনো স্মরণীয়।

১৯৫৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর নাটোরের সিংড়ায় জন্মগ্রহণ করেন ফরিদা পারভীন। শৈশব থেকেই সংগীতের প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ ছিল। মাগুরায় ওস্তাদ কমল চক্রবর্তীর কাছে সংগীতে তাঁর হাতেখড়ি। পরবর্তীতে কুষ্টিয়া ও মেহেরপুরের একাধিক গুণী শিক্ষকের সান্নিধ্যে শাস্ত্রীয় সংগীত ও নজরুলসংগীতে দক্ষতা অর্জন করেন তিনি।

তবে লালন সাঁইজির আধ্যাত্মিক দর্শন তাঁকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে। গুরু মোকছেদ আলী সাঁইয়ের কাছে লালনগীতির তালিম নেওয়ার পর এই ধারার গানেই নিজস্ব পরিচয় গড়ে তোলেন ফরিদা পারভীন। তাঁর দরদমাখা কণ্ঠে লালনের দর্শন ও মানবতাবাদী ভাবনা সাধারণ শ্রোতার কাছেও সহজে পৌঁছে যায়।

সাড়ে পাঁচ দশকের বেশি সময়ের বর্ণাঢ্য সংগীতজীবনে ফরিদা পারভীন উপহার দিয়েছেন অসংখ্য কালজয়ী গান। ‘সত্য বল সুপথে চল’, ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’, ‘বাড়ির কাছে আরশিনগর’ এবং ‘এই পদ্মা এই মেঘনা’সহ তাঁর গাওয়া বহু গান আজও শ্রোতাদের কাছে জনপ্রিয়।

সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিও পেয়েছেন এই শিল্পী। ১৯৮৭ সালে তিনি একুশে পদক লাভ করেন। ১৯৯৩ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। বাংলাদেশের লোকসংগীতকে আন্তর্জাতিক পরিসরে পরিচিত করে তোলার ক্ষেত্রেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এর স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৮ সালে জাপানের ‘ফুকুওকা এশিয়ান কালচার প্রাইজ’ লাভ করেন তিনি।

ফরিদা পারভীনের কণ্ঠে লালনগীতি শুধু সংগীতের পরিবেশনা হয়ে ওঠেনি; এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দর্শন, আত্মঅনুসন্ধান ও মানবিকতার বার্তা। দীর্ঘ সংগীতজীবনে তিনি লালনগীতিকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও জনপ্রিয় করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

আজ তাঁর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে সংগীতপ্রেমীরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছেন বাংলাদেশের লোকসংগীতের এই কিংবদন্তিকে। তাঁর গান ও সংগীতচর্চার মধ্য দিয়েই প্রজন্মের পর প্রজন্মের কাছে বেঁচে থাকবে ফরিদা পারভীনের স্মৃতি।আ

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: