হামলা-ভাঙচুর ও দখলের ঘটনায় বিব্রত সরকার, তদন্তে বিএনপির নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ

Sharmin Sultana Sharmin Sultana ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৬ PM BST ২১ বার পঠিত
হামলা-ভাঙচুর ও দখলের ঘটনায় বিব্রত সরকার, তদন্তে বিএনপির নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ

collected

রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার ভাঙচুর, ইসিবি চত্বরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও-কার্যালয়ে হামলা, মোহাম্মদপুর ও আদাবরে জমি ও বাড়ি দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষসহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনায় সরকার বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে। এসব ঘটনার কয়েকটিতে রাজনৈতিক পরিচয়ধারী ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠায় সরকার ও বিএনপির ভেতরেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক হামলা, ভাঙচুর ও অবৈধ দখলের ঘটনায় সরকার দুঃখিত ও বিব্রত। প্রতিটি ঘটনা সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে জড়িতদের আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হবে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।

মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে মধ্যরাতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশ ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে। স্থানীয় বিএনপির কয়েকজনের সম্পৃক্ততার অভিযোগও তদন্ত করা হচ্ছে। হামলার পর সেখানে একটি সমবায় সমিতির সাইনবোর্ড ও ব্যানার টাঙানোর বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। ঘটনার পর স্বাস্থ্য ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীসহ স্থানীয় বিএনপির নেতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান। কেন্দ্রটিতে টিকাদান কার্যক্রম চালু রাখার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা মেরামতের কাজও শুরু হয়েছে।

রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় নিষ্ক্রিয়তা ও দায়িত্বে অবহেলার প্রাথমিক অভিযোগে শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে। এদিকে ইসিবি চত্বরে সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ স্টুডিও’-তে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনাতেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত শুরু করেছে। মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান ও আদাবরের শেখেরটেক এলাকায় জমি ও বাড়ি দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায়ও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বিএনপির দায়িত্বশীল কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে দলের কোনো নেতা-কর্মীর সম্পৃক্ততা বা ইন্ধন রয়েছে কি না, তা অভ্যন্তরীণভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তারা। সরকারও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সাম্প্রতিক এসব ঘটনায় নাগরিক সমাজেরও উদ্বেগ প্রকাশের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) দেশের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও দখলবাজির ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে। একই সঙ্গে ৩৮ জন বিশিষ্ট নাগরিক এক যৌথ বিবৃতিতে এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তবে বিভিন্ন ঘটনার সঙ্গে যাদের নাম বা রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ এসেছে, সেগুলো তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়া প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এখনো সব ক্ষেত্রে আদালতের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়নি।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: