সংগৃহীত ছবি
দুই দশকের বেশি সময় ধরে ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে রাজত্ব করে চলেছেন লিওনেল মেসি। রোনালদিনিও, থিয়েরি অঁরি ও কাকার সময় থেকে শুরু করে এখন কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর্লিং হলান্ড ও লামিনে ইয়ামালের মতো তারকাদের সঙ্গে পাল্লা দিয়েও নিজের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রেখেছেন আর্জেন্টাইন এই ফুটবলার।
বার্সেলোনার মেরুন-নীল জার্সি থেকে মায়ামির গোলাপি রং কিংবা আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ জয়—মেসির ক্যারিয়ারজুড়ে সাফল্য ও ট্রফির কমতি নেই। অসাধারণ প্রতিভা তাঁর সাফল্যের বড় ভিত্তি হলেও দীর্ঘ সময় সর্বোচ্চ পর্যায়ে টিকে থাকার পেছনে ফিটনেস, অনুশীলন, বিশ্রাম ও খাদ্যাভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
শুরুর দিকে খাদ্যাভ্যাসে ছিল অনিয়ম
ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে মেসির খাদ্যাভ্যাস খুব একটা নিয়মতান্ত্রিক ছিল না। পিৎজা, ফাস্ট ফুড ও কোমল পানীয় ছিল তাঁর পছন্দের তালিকায়। আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় খাবার ‘মিলানেসা’ও পছন্দ করতেন তিনি।
প্রথম দিকে এসব খাবারের প্রভাব খুব একটা দৃশ্যমান না হলেও সময়ের সঙ্গে শারীরিক সমস্যার বিষয়টি সামনে আসে। ২০১৪ সালে নিজের খাদ্যাভ্যাসে বড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন মেসি। সে সময় ইতালীয় পুষ্টিবিদ জিউলিয়ানো পোসেরের সঙ্গে কাজ শুরু করেন তিনি।
খাবারের তালিকায় বড় পরিবর্তন
পোসেরের পরামর্শে মেসির খাদ্যতালিকায় আসে বড় পরিবর্তন। পানি, জলপাইয়ের তেল, অখণ্ড শস্য, তাজা ফল ও শাকসবজিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাত খাবার, চিনি ও লাল মাংসের পরিমাণ কমিয়ে আনা হয়।
পোসেরের সঙ্গে কাজ শুরুর পর ২০১৪-১৫ মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন মেসি। সেই মৌসুমে ৫৮ গোল ও ২৩টি অ্যাসিস্ট করেন তিনি। বার্সেলোনা জেতে চ্যাম্পিয়নস লিগ, লা লিগা ও কোপা দেল রে—অর্থাৎ ট্রেবল।
কোমল পানীয়ের বদলে ইয়েরবা মাতে
খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তনের পাশাপাশি কোমল পানীয় থেকেও দূরে সরে যান মেসি। এর পরিবর্তে দক্ষিণ আমেরিকার ঐতিহ্যবাহী পানীয় ইয়েরবা মাতে তাঁর দৈনন্দিন অভ্যাসের অংশ হয়ে ওঠে।
মাতে সাধারণত উষ্ণ পানিতে ভিজিয়ে পান করা হয়। আর্জেন্টিনা ও দক্ষিণ আমেরিকার সংস্কৃতিতে এই পানীয়ের বিশেষ জায়গা রয়েছে। মেসির হাতেও বিভিন্ন সময় মাতে দেখা গেছে। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা দলের সঙ্গেও বিপুল পরিমাণ ইয়েরবা মাতে ছিল।
২০১৯ সালে ‘মার্কা’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেসি জানিয়েছিলেন, আগে মাতে মিষ্টি করে খেলেও পরে তিতকুটে স্বাদের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন।
মেসির পছন্দের খাবার
বার্সেলোনায় থাকার সময় ক্লাবটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে মেসির পছন্দের একটি খাবারের রেসিপিও প্রকাশ করা হয়েছিল। খাবারটির মূল উপাদান ছিল রোস্ট করা মুরগি, আলু ও বিভিন্ন সবজি।
রেসিপিতে ছিল জলপাইয়ের তেল, রসুন, পেঁয়াজ, গাজর, লিক, আলু, মুরগির রান এবং থাইম। সবজি ও মুরগির মাংস মসলা ও জলপাইয়ের তেল দিয়ে ওভেনে রোস্ট করেই খাবারটি তৈরি করা যায়।
মিষ্টির প্রতি দুর্বলতা এখনো আছে
খাদ্যাভ্যাসে কঠোর হলেও মিষ্টির প্রতি দুর্বলতা পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেননি মেসি। চকলেট, দুলসে দে লেচে ও আইসক্রিম তাঁর পছন্দের খাবারের মধ্যে রয়েছে।
মেসি নিজেই বিভিন্ন সময়ে বলেছেন, মিষ্টিজাতীয় খাবার তাঁর খুব পছন্দ এবং এগুলো এড়িয়ে চলা তাঁর জন্য সহজ নয়। তাই নিয়ম মেনে চলার পাশাপাশি মাঝেমধ্যে নিজের পছন্দের খাবারেও ছাড় দেন তিনি।
পানি পানের পাশাপাশি নিজের ব্র্যান্ডের স্পোর্টস ড্রিংক ‘মাস প্লাস’ও পান করেন মেসি। অর্থাৎ কঠোর খাদ্যনিয়মের মধ্যেও নিজের পছন্দের কিছু খাবার ও পানীয়ের জন্য জায়গা রেখেছেন তিনি।
ফুটবলে দীর্ঘস্থায়ী ক্যারিয়ার গড়তে শুধু প্রতিভাই যথেষ্ট নয়—ফিটনেস, অনুশীলন, বিশ্রাম এবং খাদ্যাভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ। মেসির ক্যারিয়ারে সময়ের সঙ্গে খাদ্যাভ্যাসের যে পরিবর্তন এসেছে, সেটিও তাঁর দীর্ঘদিনের শীর্ষ পর্যায়ের পারফরম্যান্স ধরে রাখার প্রচেষ্টার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ।