collected
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় মো. আনোয়ার হোসেন (৪০) নামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের এক নেতাকে নিজ বাড়িতে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। রোববার ভোর ৪টার দিকে উপজেলার উত্তর পেন্নই গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আনোয়ার শ্রীকাইল ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এবং একই ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, সাবেক ইউপি সদস্য ফিরোজ হোসেনের নেতৃত্বে একদল লোক তার বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় আনোয়ারকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। স্বামীকে রক্ষা করতে গিয়ে তার স্ত্রী মোমেনা বেগমও আহত হন।
পরিবারের ভাষ্য, প্রায় আড়াই বছর ধরে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে ছিলেন আনোয়ার। শনিবার গভীর রাতে গোপনে তিনি বাড়িতে ফেরেন। বিষয়টি জানতে পেরে রাত সাড়ে ৩টার দিকে ফিরোজ হোসেনের নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে হামলা চালায় বলে পরিবারের অভিযোগ।
মোমেনা বেগমের দাবি, হামলার পর ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নিতে এলাকায় ডাকাত পড়েছে বলে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়। আহত আনোয়ারকে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাদের আটকে রাখা হয়। পরে বাঙ্গরা বাজার থানা-পুলিশের সহায়তায় সকাল ৬টার দিকে আনোয়ারকে উদ্ধার করে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নাজমুস সাকির বলেন, হাসপাতালে নেওয়ার পর পরীক্ষা করে আনোয়ারকে মৃত পাওয়া যায়। তার ধারণা, হাসপাতালে আনার পথেই আনোয়ারের মৃত্যু হয়েছে।
আনোয়ারের চাচাতো ভাই মো. জসিম উদ্দিনের অভিযোগ, কিছুদিন আগে গ্রামে ফেরার চেষ্টা করলে ফিরোজ হোসেনের লোকজন আনোয়ারের কাছে ১০ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দিলে এলাকায় ফিরলে তাকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। তার অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে আনোয়ারকে হত্যা করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আনোয়ার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য প্রার্থী ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুনের পক্ষে কাজ করেন। অন্যদিকে সাবেক ইউপি সদস্য ফিরোজ হোসেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম সরকারের পক্ষে কাজ করেছিলেন। ওই নির্বাচনে জাহাঙ্গীর আলম সরকারের কাছে ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন পরাজিত হন।
এদিকে বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিউল আলম বলেন, আনোয়ার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন এবং মারামারির ঘটনায় তার বিরুদ্ধে থানায় পাঁচটি মামলা রয়েছে। তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।
এ ঘটনায় প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িতদের বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করছে।