collected
৭১ লাখ ৮৭ হাজার ২৬৫ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে করা মামলায় রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ করিমকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের আইনজীবী দেলোয়ার জাহান রুমি।
এদিন আদালতে সাহেদের আইনজীবী দবির উদ্দিন তাঁর জামিনের আবেদন করেন। তবে ওই আবেদনের ওপর শুনানি হয়নি।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালের ৭ মার্চ দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী বাদী হয়ে মামলাটি করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ১০ জানুয়ারি দুদকের সহকারী পরিচালক ও তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়াতুল ইসলাম মোহাম্মদ সাহেদ ও তাঁর স্ত্রী সাদিয়া আরবীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০২০ সালের ২৮ ডিসেম্বর দুদকে দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে সাদিয়া আরবী স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে ৬১ লাখ ৩০ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য দেন। তবে তদন্তে তাঁর নামে ৭৬ লাখ ২৩ হাজার ৬২৫ টাকার সম্পদ পাওয়া যায়। এতে ১৪ লাখ ৯৩ হাজার ৬২৫ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ করা হয়।
এ ছাড়া পারিবারিক ব্যয় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা হিসাবে ধরলে তাঁর অর্জিত সম্পদের মোট মূল্য দাঁড়ায় ৭৮ লাখ ২৩ হাজার ৬২৫ টাকা। অন্যদিকে আয়কর নথি অনুযায়ী তাঁর অর্জিত আয়ের পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তদন্তে তাঁর ৭৩ লাখ ৫৩ হাজার ৬২৫ টাকার সম্পদ জ্ঞাত আয়ের উৎসের বাইরে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তে আরও বলা হয়, সাদিয়া আরবীর নিজস্ব নির্ভরযোগ্য আয়ের উৎস ছিল না। তাঁর স্বামী মোহাম্মদ সাহেদ অবৈধ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ স্ত্রীর নামে হস্তান্তর, রূপান্তর ও গোপন করে সম্পদ অর্জনে সহায়তা করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় তাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১), মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মোহাম্মদ সাহেদ এর আগে বিভিন্ন জালিয়াতি ও প্রতারণার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন। অস্ত্র মামলা ও চেক ডিজঅনারের মামলাসহ তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন আদালতে মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন মামলায় সাজা ও পরোয়ানা থাকায় তিনি কারাগারে রয়েছেন।