collected
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের আলোচিত সাইদুল ইসলাম শাহীন হত্যা মামলায় মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে রুবেলকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং নূর উদ্দিন ওরফে শমীরকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় আরও চার আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নোয়াখালী বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ও দায়রা জজ মো. শওকত আলী এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় মামলার ছয় আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
রায়ে সাইফুল ইসলাম ওরফে রুবেলকে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাঁকে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
অন্যদিকে নূর উদ্দিন ওরফে মো. শমীরকে দণ্ডবিধির ৩০৭ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাঁকে আরও এক মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
খালাস পাওয়া চার আসামি হলেন সিরাজ আলম ওরফে সিরাজুল ইসলাম, কাজুলী বেগম, রোকসানা বেগম ও আফরোজা বেগম। তাঁদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩০৭, ৩০২ ও ৩৪ ধারায় আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাঁদের বেকসুর খালাস দেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ৬ আগস্ট দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের সলিম উল্লাহর বাড়ির সামনে সীমানার কড়ই গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে বিরোধ সৃষ্টি হয়। ওই বিরোধের মীমাংসায় সালিসি বৈঠক চলাকালে আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে সাইদুল ইসলাম শাহীনকে লোহার রড দিয়ে গলায় আঘাত করেন এবং এলোপাতাড়ি মারধর করেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বিশেষ জজ আদালতের পিপি তাপসকর হোসেন মো. খায়রুল ওয়ালা বলেন, সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামিকে সাজা পরোয়ানার মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে খালাসপ্রাপ্ত আসামি ও তাঁদের জামিনদারদের জামিননামার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।