শর্তসাপেক্ষে বর্জ্য সুতা আমদানির অনুমতি দিল এনবিআর

Pinky Saha Pinky Saha ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪:৫৭ PM BST ২১ বার পঠিত
শর্তসাপেক্ষে বর্জ্য সুতা আমদানির অনুমতি দিল এনবিআর

ছবি: সংগৃহীত

দেশীয় স্পিনিং মিল মালিকদের আপত্তি এবং পোশাক রপ্তানিকারকদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের বর্জ্য সুতা বা ওয়েস্ট ইয়ার্ন আমদানির অনুমতি দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে আমদানিকৃত কাঁচামালের অপব্যবহার ঠেকাতে আমদানিকারকদের জন্য ব্যাংক গ্যারান্টি জমা দেওয়ার শর্ত রাখা হয়েছে।

সোমবার এনবিআরের দ্বিতীয় সচিবের সই করা এক আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এইচএস কোড ৫৫০৫, ৫৫০৬ ও ৫২০৭-এর আওতাভুক্ত নির্দিষ্ট মানের বর্জ্য সুতা বন্ড সুবিধার অধীনে শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করা যাবে।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT রবি আজিয়াটা লিমিটেড

তবে এই সুবিধা সবার জন্য উন্মুক্ত নয়। কেবল বিজিএমইএ বা বিকেএমইএর সদস্যভুক্ত শতভাগ রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক ও বস্ত্র কারখানাগুলো এই সুবিধার আওতায় বর্জ্য সুতা আমদানি করতে পারবে।

এনবিআরের শর্ত অনুযায়ী, আমদানির সময় প্রযোজ্য শুল্ক ও করের সমপরিমাণ অর্থের একটি নিঃশর্ত ও অপরিবর্তনীয় ব্যাংক গ্যারান্টি সংশ্লিষ্ট কাস্টমস স্টেশনে জমা দিতে হবে। আমদানি করা কাঁচামাল ব্যবহার করে উৎপাদিত পণ্য বিদেশে রপ্তানি সম্পন্ন হওয়ার পর যথাযথ কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়ন পাওয়া গেলে সেই ব্যাংক গ্যারান্টি অবমুক্ত করা হবে।

খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, কম ও মধ্যমূল্যের পোশাক এবং নিটওয়্যার উৎপাদনে বর্জ্য সুতা গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে পোশাক রপ্তানিতে তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে কম দামে কাঁচামাল সংগ্রহের সুযোগ চেয়ে রপ্তানিকারকেরা দীর্ঘদিন ধরে ওয়েস্ট ইয়ার্ন আমদানির অনুমতি দাবি করে আসছিলেন।

অন্যদিকে, দেশীয় স্পিনিং মিল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) অনিয়ন্ত্রিতভাবে বর্জ্য সুতা আমদানির বিরোধিতা করে আসছিল। তাদের আশঙ্কা ছিল, অতিরিক্ত আমদানির সুযোগ তৈরি হলে স্থানীয় সুতা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বাজার হারিয়ে ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

দুই পক্ষের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য আনতে বিশেষ একটি ওয়ার্কিং গ্রুপের সুপারিশের ভিত্তিতে এনবিআর শর্তসাপেক্ষে আমদানির এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে একদিকে পোশাক রপ্তানিকারকেরা তুলনামূলক কম দামে কাঁচামাল সংগ্রহের সুযোগ পাবেন, অন্যদিকে ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে আমদানিকৃত কাঁচামালের ব্যবহার তদারকির সুযোগ থাকবে।

এনবিআরের কর্মকর্তারা মনে করছেন, ব্যাংক গ্যারান্টির শর্ত থাকায় আমদানি করা বর্জ্য সুতা রপ্তানিমুখী পণ্য উৎপাদনেই ব্যবহার হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা সহজ হবে। উৎপাদিত পণ্য রপ্তানি না হলে শুল্ক-কর আদায়ের সুযোগও থাকবে।

বর্তমানে জ্বালানি, উৎপাদন ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে পোশাক শিল্প চাপের মধ্যে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শর্তসাপেক্ষে বর্জ্য সুতা আমদানির অনুমতি রপ্তানিকারকদের কাঁচামাল সংগ্রহে কিছুটা ব্যয় সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে দেশীয় স্পিনিং শিল্পের স্বার্থও বিবেচনায় রাখার চেষ্টা করেছে এনবিআর।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ
শেয়ার করুন: