collected
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে তিন সন্তানকে নিয়ে এক বাবার কীটনাশক পানের অভিযোগ উঠেছে। এতে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাদের বাবা সরাফত আলীকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের রজনীলাইন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত তিন শিশুর মধ্যে মাওয়া আক্তারের বয়স ১০ বছর, শামিম মিয়ার ৭ বছর এবং তামিম মিয়ার ২ বছর। তাদের বাবা সরাফত আলী (৩৫) বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সরাফত আলীর স্ত্রী ফাতেমা বেগম তিন দিন আগে সৌদি আরবে যান। তার বিদেশে যাওয়া নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে সরাফত আলী তিন সন্তানকে নিয়ে ঘুমাতে যান। পরে রাত আনুমানিক ১টার দিকে তিনি সন্তানদের নিয়ে কীটনাশক পান করেন বলে জানা যায়।
এরপর সরাফত আলী ময়মনসিংহে থাকা তার এক ফুফুকে ফোন করে বিষয়টি জানান এবং পরিবারের সদস্যদের কাছে ক্ষমা চান বলে জানা গেছে। পরে তার ফুফু বাড়িতে থাকা সরাফত আলীর ছোট ভাই রহমত আলীকে বিষয়টি জানান।
খবর পেয়ে রহমত আলীসহ পরিবারের সদস্যরা দ্রুত বাড়িতে গিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে চারজনকে উদ্ধার করেন। পরে তাদের তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তিন শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন। সরাফত আলীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমদ বলেন, তিন শিশুর মরদেহ বর্তমানে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহগুলো সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।
ওসি জানান, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।