ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ব বিনোদন অঙ্গনের অসংখ্য তারকার স্মরণীয় ও সাহসী পোশাকের নেপথ্যে ছিলেন বব ম্যাকি। শের, টিনা টার্নার, ডলি পার্টন ও এলটন জনের মতো কিংবদন্তি শিল্পীদের মঞ্চ ও পর্দার উপস্থিতিকে অনন্য করে তুলেছিলেন এই মার্কিন কস্টিউম ডিজাইনার। ফ্যাশন দুনিয়ায় ‘সুলতান অব সিকুইনস’ নামে পরিচিত বব ম্যাকি ৮৭ বছর বয়সে মারা গেছেন।
১৯৩৯ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেরি পার্কে জন্ম নেওয়া ম্যাকির ক্যারিয়ার শুরু হয় ফরাসি-আমেরিকান পোশাকশিল্পী জঁ লুইয়ের স্কেচ আর্টিস্ট হিসেবে। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকেই তিনি যুক্ত হন হলিউডের গুরুত্বপূর্ণ সব প্রকল্পের সঙ্গে। ১৯৬২ সালে প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডির জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মেরিলিন মনরোর পরা বিখ্যাত পোশাকের স্কেচ তৈরির সঙ্গেও তাঁর নাম জড়িয়ে আছে।
দীর্ঘ কর্মজীবনে বব ম্যাকি নিজেকে শুধু একজন পোশাকশিল্পী হিসেবে নয়, বরং বিনোদন জগতের তারকাদের দৃশ্যমান পরিচয় নির্মাণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারিগর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। টেলিভিশন, চলচ্চিত্র, মঞ্চ ও পুরস্কার অনুষ্ঠানের জন্য তাঁর নকশা করা পোশাকগুলো প্রায়ই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসত। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি নয়টি এমি অ্যাওয়ার্ড ও একটি টনি অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন। পাশাপাশি তিনবার অস্কারের জন্য মনোনীতও হন।
পপতারকা শেরের ক্যারিয়ারে ম্যাকির অবদান ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। শেরের বেশ কিছু আলোচিত মঞ্চ ও পুরস্কার অনুষ্ঠানের পোশাকের নকশা করেন তিনি। ১৯৮৬ সালের অস্কার অনুষ্ঠানে শেরের পরা সাহসী পোশাক ও মোহক-ধাঁচের মাথার সাজ তাঁর সবচেয়ে স্মরণীয় কাজগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়। তারকার প্রচলিত সৌন্দর্যের ধারণাকে ভেঙে দিয়ে নতুন ধরনের মঞ্চসজ্জা ও পোশাকের ভাষা তৈরিতে ম্যাকির নকশা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
শুধু শের নন, টিনা টার্নার, ডলি পারটন ও এলটন জনের মতো শিল্পীদের ক্ষেত্রেও তাঁর নকশা মঞ্চের উপস্থিতিকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। ঝলমলে সিকুইন, নাটকীয় কাটিং, উজ্জ্বল রং এবং শরীরের গড়নকে গুরুত্ব দেওয়া তাঁর নকশার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হয়ে ওঠে। এ কারণেই বিনোদন ও ফ্যাশন—দুই জগতেই তাঁর আলাদা পরিচিতি তৈরি হয়।
বয়স বাড়লেও কাজ থেকে দূরে সরে যাননি ম্যাকি। নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্যও তিনি নিয়মিত কাজ করেছেন। ২০২৪ সালের গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসে মাইলি সাইরাসের আলোচিত লুক এবং সাম্প্রতিক সময়ে সাবরিনা কার্পেন্টারের রেড কার্পেটের পোশাকেও তাঁর সৃজনশীলতার ছাপ দেখা গেছে।
নিজের কাজ সম্পর্কে ম্যাকির দৃষ্টিভঙ্গিও ছিল আলাদা। জীবনের শেষ পর্যায়েও তিনি সৃজনশীল কাজ চালিয়ে যেতে চেয়েছেন। একসময় তিনি জানিয়েছিলেন, কাজ থেকে অবসর নেওয়ার ইচ্ছা তাঁর নেই। সেই কথার প্রতিফলনও দেখা গেছে তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে—বয়সের সীমাকে অতিক্রম করে শেষ সময় পর্যন্ত সৃজনশীলতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি।
বব ম্যাকির প্রয়াণে হলিউড ও আন্তর্জাতিক ফ্যাশন অঙ্গন হারাল এমন একজন শিল্পীকে, যিনি পোশাককে শুধু পরিধেয় বস্তু হিসেবে দেখেননি; বরং তারকাদের ব্যক্তিত্ব, মঞ্চের নাটকীয়তা এবং জনপ্রিয় সংস্কৃতির অংশ হিসেবে ব্যবহার করেছেন। তাঁর তৈরি অসংখ্য স্মরণীয় পোশাক ও নকশা ভবিষ্যতেও বিনোদন ও ফ্যাশন ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে থাকবে।