collected
রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় তেজগাঁও কলেজ জামে মসজিদ থেকে উগ্রবাদী তৎপরতায় জড়িত থাকার সন্দেহে ২৩ জনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরে যাচাই-বাছাই শেষে ১১ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি ১২ জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলে তাদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পর তেজগাঁও কলেজ জামে মসজিদে কয়েকজনের বৈঠক করার তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। সিটিটিসি ও স্থানীয় থানা-পুলিশের সদস্যরা সেখানে অভিযান চালিয়ে ২৩ জনকে আটক করেন।
শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই করে ১১ জনের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত অভিযোগ না পাওয়ায় তাদের মুচলেকা নিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অন্য ১২ জনকে সিটিটিসির হেফাজতে নেওয়া হয়।
পরে ওই ১২ জনকে আদালতে হাজির করে পুলিশ তাদের প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান প্রত্যেকের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ডের বিরোধিতা করে জামিনের আবেদন করেছিলেন।
পুলিশের রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকজন যুবক শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট, উগ্রবাদ ছড়ানো এবং সহিংস ঘটনা ঘটানোর উদ্দেশ্যে একত্রিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, সিম ও অন্যান্য ডিজিটাল আলামত পরীক্ষা এবং ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চাওয়া হয়।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কয়েকজন ‘মিটআপ’ নামে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সদস্য এবং সেখানে উগ্রবাদী বক্তব্য ও বিভিন্ন বিষয়ে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কয়েকজনের স্বজন তাদের উগ্রবাদে সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
গ্রেপ্তার ১২ জন হলেন—মো. শিহাব উদ্দিন (৩২), মারজুক আহমেদ (২৬), সাইফুর রহমান খান (৩২), রাম্মি মিয়া (২৯), কামিছুল ইসলাম (৩৬), সাজ্জাদ হোসেন (২২), আফিফ আহমেদ (২০), মোহাইমিনুল হক (২৭), জাওজি চৌধুরী (১৯), শাহাদাত হোসেন (২৫), সাব্বির আহমেদ (২৬) ও জুনায়েদ আহমেদ (২১)।
এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা হলেও তদন্ত শেষ হওয়ার আগে আটক ব্যক্তিদের উগ্রবাদী বা জঙ্গি হিসেবে চূড়ান্তভাবে অভিহিত করার সুযোগ নেই। আদালতের পরবর্তী কার্যক্রম ও তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে।