ছবি: সংগৃহীত
জ্ঞানীরা বলেন, ‘সকালের সূর্যই বলে দেয় দিনটা কেমন যাবে।’ তবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বেলায় যেন সেই প্রবাদ একেবারেই খাটল না। দুর্দান্ত শুরু করেও শেষ পর্যন্ত ঘরের মাঠে ব্রাইটনের কাছে ৩-২ গোলে হেরে কারাবাও কাপ থেকে বিদায় নিয়েছে রেড ডেভিলসরা।
ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ম্যাচের প্রথম ১০ মিনিটেই ২-০ গোলে এগিয়ে যায় ইউনাইটেড। ৮ মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন তরুণ ফরোয়ার্ড শিয়া লেসি। দুই মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ম্যাসন মাউন্ট। শুরুতেই দুই গোলের লিড পেয়ে স্বস্তিতেই ছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু এরপরই ম্যাচের চিত্র বদলে যায়।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে ব্রাইটনকে ম্যাচে ফেরান চারালামপোস কোস্তুলাস। বিরতির আগে পাওয়া সেই গোলই যেন বদলে দেয় সফরকারীদের আত্মবিশ্বাস। দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে দ্রুত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয় ব্রাইটন।
৬৫ মিনিটে পাসকেল গ্রোব গোল করে ব্রাইটনকে সমতায় ফেরান। এরপর মাত্র চার মিনিটের ব্যবধানে আসে জয়সূচক গোল। ৬৯ মিনিটে ম্যাক্সিম ডি কুপারের গোলে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় সফরকারীরা। শেষ পর্যন্ত আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি ইউনাইটেড।
এই পরাজয়ের সঙ্গে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের নামের পাশে যুক্ত হয়েছে পাঁচ দশক পুরোনো একটি বিরল রেকর্ড। পরিসংখ্যান প্রতিষ্ঠান অপ্টার তথ্য অনুযায়ী, ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে দুই গোলের লিড নেওয়ার পর ইউনাইটেডের হারের ঘটনা সর্বশেষ ঘটেছিল ১৯৭৬ সালে। সেবার টটেনহামের কাছে ৩-২ গোলে হেরেছিল তারা। এরপর ৫০ বছর ধরে ঘরের মাঠে এমন পরিস্থিতিতে হারেনি রেড ডেভিলসরা।
ম্যাচে ইউনাইটেডের রক্ষণভাগের ভুলও ছিল চোখে পড়ার মতো। ব্রাইটনের তিনটি গোলেই স্বাগতিকদের রক্ষণে সমন্বয়ের ঘাটতি দেখা যায়। দ্বিতীয়ার্ধে সমতায় ফেরার পর ব্রাইটনের আক্রমণ সামলাতে ব্যর্থ হয় ইউনাইটেডের ডিফেন্স।
৭৬ মিনিটের পর আবার আক্রমণে গতি বাড়ানোর চেষ্টা করে ইউনাইটেড। ৭৭ মিনিটে সমতাসূচক গোলের দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন মার্কাস রাশফোর্ড। ব্রাইটনের গোলরক্ষক জ্যাসন স্টিলকে একা পেয়েও সুযোগটি কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। তাঁর শট গোলরক্ষকের পায়ে লেগে প্রতিহত হয়।
শেষ দিকে ব্রাইটনও ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল। তবে ডিয়েগো গোমেজের প্রচেষ্টা সরাসরি ইউনাইটেড গোলরক্ষক কার্ল ডার্লোর শরীরে লেগে ফিরে আসে। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ৩-২ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ব্রাইটন।
দুই গোলের লিড নিয়ে এমন পরাজয়ে কারাবাও কাপের তৃতীয় রাউন্ড থেকেই বিদায় নিশ্চিত হয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের। একই সঙ্গে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ৫০ বছর পর ফিরে এসেছে দুই গোলের লিড হারিয়ে ম্যাচ হারের সেই বিব্রতকর স্মৃতি।