আসিয়ান কাপের আগে চোট-ফিটনেস ও ‘নাম্বার নাইন’ সংকটে বাংলাদেশ

Pinky Saha Pinky Saha ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩:১৯ PM BST ২৮ বার পঠিত
আসিয়ান কাপের আগে চোট-ফিটনেস ও ‘নাম্বার নাইন’ সংকটে বাংলাদেশ

ছবি: সংগৃহীত

আসিয়ান কাপের আগে একসঙ্গে বেশ কয়েকটি সমস্যার মুখে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। চোটের ধাক্কা, ফিটনেস-ঘাটতি এবং সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে দলে স্বীকৃত ‘নাম্বার নাইন’ বা সেন্টার ফরোয়ার্ড না থাকা। সব মিলিয়ে টুর্নামেন্ট শুরুর আগে প্রস্তুতি নিয়ে খুব একটা স্বস্তিতে নেই কোচ টমাস ডুলি।

মঙ্গলবার কিংস অ্যারেনায় সাংবাদিকদের সঙ্গে দলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন ডুলি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সান মারিনোর বিপক্ষে ম্যাচের পর দেশের বেশির ভাগ খেলোয়াড় প্রায় দুই মাস নিয়মিত দলীয় অনুশীলনের বাইরে ছিলেন। সেই ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে গত ২৭ আগস্ট থেকে জাতীয় দলের ক্যাম্প শুরু হয়েছে।

ডুলি বলেন, সান মারিনো ম্যাচের পর বেশির ভাগ স্থানীয় খেলোয়াড় নিয়মিত অনুশীলনে ছিলেন না। তাঁরা নিজেদের মতো করে একক প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তবে দেশের বাইরে থাকা খেলোয়াড়েরা নিজ নিজ ক্লাবের সঙ্গে অনুশীলন, প্রাক্‌-মৌসুম প্রস্তুতি ও ম্যাচ খেলেছেন।

দীর্ঘ বিরতির পর খেলোয়াড়দের দ্রুত ম্যাচ ফিট করে তুলতে শুরু থেকেই বাড়তি অনুশীলনের ওপর জোর দিতে হয়েছে। দিনে দুবার অনুশীলন করানোর ফলে কয়েকজন খেলোয়াড় পেশির সমস্যাতেও পড়েছেন।

ডুলির ভাষায়, ম্যাচের প্রায় চার সপ্তাহ আগে থেকেই অনুশীলন শুরু করায় খেলোয়াড়দের ফিট করে তোলার জন্য কিছুটা সময় পাওয়া গেছে। তবে সে জন্য শুরুতেই বড় ধরনের কাজের চাপ নিতে হয়েছে এবং দিনে দুবার অনুশীলন করাতে হয়েছে।

চোটের তালিকাতেও আছে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের নাম। জামাল ভূঁইয়া ও ফয়সাল আহমেদ সামান্য পেশির টানে ভুগেছেন। তবে বিশ্বনাথ ঘোষের চোট তুলনামূলক গুরুতর। তাঁকে প্রায় চার সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হবে। ফলে আসিয়ান কাপে বিশ্বনাথকে পাওয়া যাবে না বলে জানিয়েছেন কোচ।

বিশ্বনাথকে আক্রমণভাগে ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল ডুলির। সান মারিনোর বিপক্ষে তাঁর পারফরম্যান্স সেই পরিকল্পনাকে আরও জোরালো করেছিল। কিন্তু চোটের কারণে এখন সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে হচ্ছে কোচকে।

বাংলাদেশের আরেকটি বড় সমস্যা গোল করার মতো কার্যকর সেন্টার ফরোয়ার্ডের অভাব। দলে কোনো প্রথাগত ‘নাম্বার নাইন’ না থাকায় এই পজিশনে নতুন কাউকে তৈরি করার চেষ্টা করছেন ডুলি। সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে তাঁর ভাবনায় রয়েছেন রাকিব, মজিবুর রহমান ও শাহরিয়ার ইমন। তবে এখনো কাউকে চূড়ান্ত করা হয়নি।

ডুলি মনে করেন, এই সংকট শুধু জাতীয় দলের নয়, দেশের ঘরোয়া ফুটবলেরও সমস্যা। তাঁর মতে, লিগের প্রায় প্রতিটি ক্লাবই ৯ নম্বর পজিশনে বিদেশি খেলোয়াড় ব্যবহার করে। ফলে স্থানীয় খেলোয়াড়দের মধ্যে নিয়মিত এই পজিশনে খেলার সুযোগ তৈরি হচ্ছে না এবং নতুন ‘নাম্বার নাইন’ও উঠে আসছে না।

এখন তাই রাকিব, মজিবুর কিংবা ইমনের মধ্য থেকে কে সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ড হিসেবে সবচেয়ে বেশি কার্যকর হতে পারেন, সেটিই দেখার বিষয়। ডুলি জানিয়েছেন, তাঁর মাথায় কয়েকটি ধারণা রয়েছে এবং অনুশীলনের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের মধ্যে থেকে উপযুক্ত কাউকে খুঁজে নেওয়া হবে।

তবে এখনো গোল করার অনুশীলনে বিশেষভাবে মনোযোগ দেওয়া শুরু করেনি বাংলাদেশ। ডুলির পরিকল্পনা, প্রথমে খেলোয়াড়দের শারীরিকভাবে প্রস্তুত করা। এরপর শুটিং ও ফিনিশিং নিয়ে কাজ শুরু করবেন তিনি।

অবশ্য সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ইন্দোনেশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বে বাংলাদেশ দল। ২৫ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আসিয়ান কাপে অভিযান শুরু হবে বাংলাদেশের। এরপর ২৮ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুর এবং ১ অক্টোবর স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে খেলবে দলটি।

টুর্নামেন্টের আগে হাতে থাকা অল্প সময়ে খেলোয়াড়দের চোট কাটিয়ে ম্যাচ খেলার মতো ফিট করে তোলা, দীর্ঘ অনুশীলন-ঘাটতি পূরণ করা এবং গোল করার জন্য একজন কার্যকর সেন্টার ফরোয়ার্ড খুঁজে বের করাই এখন কোচ টমাস ডুলির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: