ছবি: সংগৃহীত
‘ও মাই গুডনেস!’—ম্যাচ চলাকালীন ধারাভাষ্যকারের মুখ থেকে এমন বিস্ময়বাক্য বের হওয়াই যেন বলে দিচ্ছিল, লিওনেল মেসি কী করে দেখিয়েছেন। ওহাইওর স্কটসমিরাকল গ্রো ফিল্ডে কলম্বাস ক্রুর বিপক্ষে ইন্টার মায়ামির ম্যাচে দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিক গোল করে আবারও মুগ্ধ করেছেন আর্জেন্টাইন তারকা।
ডান প্রান্তে ১৮ গজ বক্সের বাইরে, কর্নার পতাকার কাছাকাছি জায়গা থেকে ফ্রি-কিক পেয়েছিল মায়ামি। মাঠের অধিকাংশ খেলোয়াড় যেখানে ক্রসের অপেক্ষায় ছিলেন, মেসি সেখান থেকেই সরাসরি গোলের চেষ্টা করেন। বাঁ পায়ের শটটি দারুণ বাঁক নিয়ে কলম্বাসের গোলরক্ষক প্যাট্রিক শুল্টের বাড়ানো দুই হাত এড়িয়ে দূরের ওপরের কোণে জড়িয়ে যায়।
৩৩ মিনিটে করা সেই গোলের পর অ্যাপল টিভির ধারাভাষ্যকার টেলর টোয়েলম্যানের মুখ থেকে বেরিয়ে আসে, ‘ও মাই গুডনেস!’ মেসির গোলেই ১-১ সমতায় ফেরে ইন্টার মায়ামি। এর আগে ২৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে কলম্বাসকে এগিয়ে দিয়েছিলেন মায়ামির সাবেক স্ট্রাইকার হোসে মার্তিনেজ।
দ্বিতীয়ার্ধেও গোলের জন্য একাধিকবার চেষ্টা করেন মেসি। তাঁর দূরপাল্লার একটি শট ঠেকিয়ে দেন শুল্ট, আরেকটি শট চলে যায় সাইড নেটে। তবে শেষ পর্যন্ত মেসির অসাধারণ ফ্রি-কিকও মায়ামিকে হার থেকে রক্ষা করতে পারেনি।
যোগ করা সময়ের অষ্টম মিনিটে জামাল থিয়ারে গোল করে কলম্বাসকে ২-১ ব্যবধানের জয় এনে দেন। এর দুই মিনিট আগে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন মায়ামির সান্তিয়াগো মোরালেস।
কলম্বাসের বিপক্ষে এই গোলটি ফ্রি-কিকে মেসির ৭৬তম গোল। ইন্টার মায়ামির হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এটি তাঁর ১২তম ফ্রি-কিক গোল, যার ছয়টিই এসেছে চলতি মৌসুমে। এবারের এমএলএসে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১-এ। গোল্ডেন বুটের দৌড়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকা এফসি ডালাসের পেতার মুসার চেয়ে তিন গোলে এগিয়ে আছেন তিনি।
তবে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স উজ্জ্বল হলেও দলীয়ভাবে হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে মেসিকে। কলম্বাসের কাছে হেরে ইস্টার্ন কনফারেন্সে আরও পিছিয়েছে ইন্টার মায়ামি। ২৭ ম্যাচে ৪৬ পয়েন্ট নিয়ে তারা তৃতীয় স্থানে, সমান পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় নিউ ইংল্যান্ড। শীর্ষে থাকা ন্যাশভিলের পয়েন্ট ৬০।
আর্জেন্টিনার জার্সিতে বিদায়ী ম্যাচ খেলতে যাওয়ার আগে ক্লাবের হয়ে এটিই ছিল মেসির শেষ ম্যাচ। আগামী ৬ অক্টোবর বুয়েনস এইরেসের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টিনার হয়ে শেষবার মাঠে নামবেন তিনি।