ছবি: সংগৃহীত
জয় আর গোলের ধারাবাহিকতায় যেন থামতেই চাইছে না বার্সেলোনা। চলতি মৌসুমে হান্সি ফ্লিকের দল একের পর এক ম্যাচ জিতছে, আর প্রতিটি ম্যাচেই দেখা যাচ্ছে গোলের উৎসব। গতকাল রাতে ক্যাম্প ন্যুতে রেসিং সান্তেন্দরের বিপক্ষে সেই উৎসব আরও বড় হয়েছে। রাফিনিয়ার হ্যাটট্রিকে বার্সেলোনা জিতেছে ৭-২ গোলে।
এই জয়ে মৌসুমের প্রথম সাত ম্যাচের সব কটিতেই জয় পেল বার্সেলোনা। ক্লাবের ইতিহাসে কোনো মৌসুমের প্রথম সাত ম্যাচে এর আগে এমন শুরু দেখা যায়নি। সাত ম্যাচে ফ্লিকের দলের গোলসংখ্যা এখন ৩৩—এটিও নতুন ক্লাব রেকর্ড।
রেসিংয়ের বিপক্ষে গোলের উৎসব শুরু করেন জোয়াও ক্যানসেলো। ম্যাচের মাত্র ৮ মিনিটে প্রায় ২০ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত শটে বল জালে পাঠান তিনি। এরপর আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠেন রাফিনিয়া। ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড তিনটি গোল করেন, যার দুটি এসেছে পেনাল্টি থেকে।
বার্সার হয়ে একটি করে গোল করেছেন গ্যাব্রিয়েল জেসুস ও লামিনে ইয়ামাল। আর রেসিংয়ের স্ট্রাইকার এইজের ভিল্লালিব্রে একটি আত্মঘাতী গোল করেন। সব মিলিয়ে সাতবার প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠায় বার্সা। রেসিং দুটি গোল শোধ করলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণে ফিরতে পারেনি।
চলতি মৌসুমে রাফিনিয়ার দুর্দান্ত ফর্ম বার্সার আক্রমণভাগকে আরও ভয়ংকর করে তুলেছে। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সাত ম্যাচে তাঁর গোল এখন ১১টি। এর মধ্যে লা লিগায় ছয় ম্যাচে করেছেন ৯ গোল।
বার্সার হয়ে কোনো মৌসুমের প্রথম সাত ম্যাচে রাফিনিয়ার ১১ গোলের শুরুটি লিওনেল মেসির রেকর্ডকেও ছুঁয়ে যাচ্ছে আলোচনায়। ২০১২-১৩ মৌসুমে প্রথম সাত ম্যাচে মেসি করেছিলেন ১০ গোল। রাফিনিয়া শুধু গোলই করেননি, সতীর্থদের দিয়ে তিনটি গোলও করিয়েছেন। ফলে সাত ম্যাচে তাঁর মোট গোল অবদান ১৪টি।
লা লিগায় প্রথম ছয় ম্যাচের হিসাবেও রাফিনিয়ার পারফরম্যান্স নজরকাড়া। ছয় ম্যাচে তাঁর গোল ৯টি। ২০১৭-১৮ মৌসুমে বার্সার হয়ে লিগের প্রথম ছয় ম্যাচে মেসিও ৯ গোল করেছিলেন। ফলে রাফিনিয়ার এমন শুরুতে আবারও মেসির নাম সামনে এসেছে।
রাফিনিয়ার সঙ্গে ইয়ামালের জুটিও বার্সার আক্রমণকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। লা লিগায় ছয় ম্যাচে ইয়ামালের গোল ৭টি। অর্থাৎ দুজন মিলে প্রথম ছয় ম্যাচেই করেছেন ১৬ গোল। গত ৮৬ বছরে লা লিগায় বার্সার কোনো জুটি এমন গোলের নজির গড়তে পারেনি। সর্বশেষ ১৯৪০-৪১ মৌসুমে সেভিয়ার হয়ে প্রথম ছয় ম্যাচে ১৯ গোল করেছিলেন কাম্পানাল ও তোরেনতেগুই।
রেসিংয়ের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে রাফিনিয়া বলেন, গোল পাওয়া ও জয়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে নিজের সেরা ছন্দে আছেন—এমনটা মনে করেন না তিনি। বরং প্রতিনিয়ত উন্নতির চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন এই ব্রাজিলিয়ান।
বার্সার সাফল্য শুধু দুই-তিনজন খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভর করছে না। চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত দলের আটজন খেলোয়াড় গোল করেছেন। লা লিগায় প্রথম ছয় ম্যাচে বার্সা করেছে ২৮ গোল, যা প্রতিযোগিতাটির ইতিহাসে প্রথম ছয় ম্যাচে টানা জয় পাওয়া কোনো দলের সর্বোচ্চ গোলসংখ্যা।
৬ ম্যাচে ২৮ গোল করার বিপরীতে বার্সা হজম করেছে মাত্র ৬টি। গোল ব্যবধান +২২। ছয় ম্যাচে টানা জয় এবং এর চেয়ে ভালো গোল ব্যবধান নিয়ে মৌসুম শুরুর নজির রয়েছে শুধু ১৯৮৭-৮৮ মৌসুমের রিয়াল মাদ্রিদের—তাদের গোল ব্যবধান ছিল +২৪।
রেসিংয়ের বিপক্ষে বড় জয়ের পর ফ্লিকও দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন। তাঁর মতে, ভালো শুরু যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি ম্যাচ ভালোভাবে শেষ করাও জরুরি। পাস দেওয়ার সময় মনোযোগ ধরে রাখার ওপরও জোর দিয়েছেন তিনি।
লা লিগায় ছয় ম্যাচ শেষে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে বার্সেলোনা। সমান ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রিয়াল মাদ্রিদ।