ছবি: সংগৃহীত
প্রায় ৯০ বছর ধরে অক্ষত থাকা একটি রেকর্ড ভেঙে বিশ্ব ফুটবলে নতুন ইতিহাস গড়েছে সৌদি আরবের ক্লাব আল-নাসর। সৌদি প্রো লিগে আল-খালিজের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করেও টানা ম্যাচে গোল করার ক্ষেত্রে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দল।
আল-খালিজের বিপক্ষে ম্যাচের ৭২তম মিনিটে আবদুল্লাহ আল-হামদানের গোলেই সমতায় ফেরে আল-নাসর। সেই গোলের মধ্য দিয়ে সৌদি ক্লাবটি টানা ৯৪ ম্যাচে অন্তত একটি করে গোল করার কীর্তি অর্জন করে। এর ফলে ১৯৩৩ থেকে ১৯৩৬ সালের মধ্যে টানা ৯৩ ম্যাচে গোল করার আর্জেন্টাইন ক্লাব রিভার প্লেটের দীর্ঘদিনের রেকর্ডটি ভেঙে যায়।
আল-নাসরের এই রেকর্ডযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন দলের পর্তুগিজ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ২০২৩ সালে সৌদি ফুটবলে যোগ দেওয়ার পর থেকেই ক্লাবটির আক্রমণভাগের অন্যতম প্রধান শক্তি হয়ে উঠেছেন তিনি। আল-নাসরের হয়ে এখন পর্যন্ত ১১৩ ম্যাচে ১০৫ গোল করেছেন এই মহাতারকা।
টানা গোল করার এই ধারার সূচনা হয়েছিল ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে। আল-হিলালের কাছে ৩-০ গোলে হারের পর পরের ম্যাচে আল-রিয়াদের বিপক্ষে ৪-১ গোলের জয় দিয়ে নতুন এই ধারার শুরু করে আল-নাসর। এরপর আর কোনো ম্যাচে গোলশূন্য থাকেনি রিয়াদভিত্তিক ক্লাবটি। শেষ পর্যন্ত সেই ধারাই ৯৪ ম্যাচে পৌঁছে রিভার প্লেটের প্রায় শতবর্ষী রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যায়।
তবে ইতিহাস গড়ার আনন্দ পুরোপুরি উপভোগ করতে পারেনি আল-নাসর। লিগের নিচের সারিতে থাকা আল-খালিজের বিপক্ষে পয়েন্ট হারিয়ে হতাশ হতে হয়েছে তাদের। এক পয়েন্ট পাওয়ায় লিগ টেবিলেও নেমে গেছে দলটি। বর্তমানে শীর্ষে থাকা আল-হিলালের চেয়ে দুই পয়েন্ট এবং দ্বিতীয় স্থানে থাকা আল-ইত্তিহাদের চেয়ে এক পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে আল-নাসর।
এদিকে আল-নাসরের রেকর্ডের পাশাপাশি রোনালদোর ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা বাড়ছে। ৪১ বছর বয়সী এই পর্তুগিজ তারকা ইঙ্গিত দিয়েছেন, চলতি মৌসুমই হয়তো তাঁর পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায় হতে পারে।
তবে অবসরের আগে আরও একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক ছোঁয়ার সুযোগ রয়েছে রোনালদোর সামনে। পেশাদার ফুটবলে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ১ হাজার গোলের মাইলফলকে পৌঁছানোর দৌড়ে রয়েছেন তিনি। বর্তমানে তাঁর অফিশিয়াল গোলসংখ্যা ৯৭৯। ফলে বহুল আলোচিত ১ হাজার গোলের মাইলফলক থেকে আর মাত্র ২১ গোল দূরে আছেন পর্তুগিজ মহাতারকা।
আল-নাসরের নতুন বিশ্বরেকর্ড এবং রোনালদোর ১ হাজার গোলের অভিযাত্রা—দুটি বিষয়ই চলতি মৌসুমে সৌদি ক্লাবটিকে বিশ্ব ফুটবলের আলোচনার কেন্দ্রে রেখেছে।